আমি চাই হাউমাউ, সজল কান্না

,
প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাশিরুল আমিন: ফ্রেন্ড লিস্টে আমার জুনিয়র একটা মেয়ে আছে। কিছুদিন আমার সাথে শহর সমাজসেবা অফিসে কাজও করেছে। প্রাণোচ্ছল আর সুহাসিনী। কথায় কথায় হেসে ওঠে, সে কি ভূবন কাপানো হাসি। সহাধ্যায়ীদের সাথে তেতে ওঠে তুচ্ছ সব বিষয়-আশয় নিয়ে। তেজোদীপ্ত কন্ঠ- সাধারণত মেয়েদের এমনটা হয় না। কাজের ফাঁকে-ফোকরে, আড্ডায় তাকে লিডার বলে ডাকতাম। মাঝে মাঝে মনো হতো মেয়েটা বড় ত্যাদড় কিন্তু তার কাজের গতি আর মুহুর্তেই অন্যকে কাবু করে ফেলার প্রতিভায় ঘায়েল হয়ে যেতাম, মেয়ে হলে এমন-ই হওয়া উচিত।
ফিল্ডওয়ার্ক শেষ করে চলে যাওয়ার অনেকদিন পর আচমকা একদিন শুনলাম মেয়েটির ক্যান্সার। তার এক বান্ধবী ফোন করে জানাল, লিভার ক্যান্সার।
ভাবলাম, ফোন দিয়ে একদিন কথা বলবো বা দেখতে যাব। আজ দু’মাস এখনো তাকে ফোন দিতে পারিনি। দেখতে যাইনি। কী বলবো তাকে ? কী বলা যায়!

মেয়েটি কেমো থেরাপি নিচ্ছে। প্রতিবার থেরাপির আগে দুয়েক লাইনের স্ট্যাটাস দেয়। তার স্ট্যাটাসের ভাষায় আমি থমকে যাই, আমার অনুভূতি স্থবির হয়ে যায়। লাইক দেই না, কমেন্টও না। কী বলা যায়, বলতে পারা যায়?

২.
আমার সবচে কাছের বন্ধুর বাবা মারা গেছেন গলার ক্যান্সারে। দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে। অমানুষিক কষ্ট সয়ে। এই অবস্থায় সে যখন-ই ফোন দিতো আমার মনে হতো সে হয়তো তার বাবার মৃত্যু সংবাদ দেবে। তাকে শান্তনা বা স্বস্তির কোন বার্তা আমি কখনো শুনাইনি- আমার কেবলই মনে হয় কীইবা বলবো তাকে। একদিন গগণবিদারী কান্নায়- আমাকে জানাল তার বাবা মারা গেছে। এই কান্নার আমি কোন প্রতি উত্তর দিতে পারিনি।। নিরব থেকেছি। নিরবতা ছাড়া আর কীইবা করার আছে!

৩.
আমার দাদী মারা গেছেন চলতি বছরের মে মাসে। তার ফুসফুস ক্যান্সার ধরা পড়ে ২০১৬-এর মাঝামাঝি সময়ে। মহিলাদের এই ক্যান্সার হয়-ই না বলতে গেলে। কিন্তু আমার দাদির হলো। তার চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব ছিল আমার উপর। খরচ দিতেন বাবা আর চাচা। আর বাকি সব আমি। রুটিন করে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। দীর্ঘ বাসযাত্রায় দাদী অপলক চেয়ে থাকতেন আমার দিকে। বলতেন- ভাইরে আমি কী সত্যি মারা যাব! কী এমন রুগ হইছে আমার যে এতো এতো ঢাকা যাইতে হয়? আমি কিছুই বলতাম না। আসলেই কী কিছু বলা যায়! মারা যাওয়ার সপ্তাহ খানেক আগেও জানতেন না, তার কী রোগ হয়েছিল।

দাদী মারা যাওয়ার পর বাড়ির সবাই কাঁদল। প্রতিবেশি-স্বজন সবাই। কাঁদলাম না কেবল আমি। একটুকুও পানি এল না চোখে। কবরে নামিয়ে আসার সময় আমার মনে হল- দাদীকে হসপিটালের বেডে রেখে নুন চা আনতে যাচ্ছি কোথাও। আমার দাদী নুন চা পান করতেন। চা পাতা সাথে শুধু লবণ। না আমি এখনো কাঁদতে পারিনি। সত্যিইকি কাঁদতে পারবো? কাঁদা যায়!
দাদি মারা যাওয়ার দুই মাস পর বুঝতে শুরু করি যে দাদি মারা গেছেন। চোখ শীতল হয় কিন্তু অশ্রু আর ঝরে না।

কিন্তু আমার এই অশ্রুহীন কান্না আমাকে খুব দীর্ঘস্থায়ী শোকের দিগন্তে নিয়ে যেতে চায়… যে দিকে শুধুই স্তব্ধতা… কিন্তু আমি এই নিরবতা চাই না! আমি চাই শোকের ভাষা, শব্দ আর হাউমাউ কান্না…


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : নীরব চিৎকার

আরও পড়ুন

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে যুবলীগের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

         সালেহ আহমদ হৃদয়, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি...

আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ছাতক ইউনিয়ন...

সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে

         ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে...