‘আমার উন্নয়ন ভাবনা’নামে খন্দকার মুক্তাদির ২২ দফা কর্ম পরিকল্পনা

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটকে ‘ডিজিটাল গ্রীণ মেগাসিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ২২ দফা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন।
রোববার দুপুরে নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডস্থ তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ‘সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকা নিয়ে আমার উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জনাকীর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব এমএ হক, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর ২৩ দলীয় জোটের সদস্য সবিচ ও মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এডভোকেট নুরুল হক, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবুল কাহির চৌধুরী, সহ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল গাফ্ফার, সিলেট মহানগর লেবার পার্টির আহবায়ক মাহবুবুর রহমান খালেদ, জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, বিজেপি (পার্থ) জেলা আহবায়ক মোজাম্মেল হোসেন লিটন ও মহানগর আহবায়ক ডা. একেএম নুরুল আম্বিয়া রিপন, জাগপা মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ আজমল বক্ত সাদেক, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী শাহজাহান আলী, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি একেএম তারেক কালাম, শাহ জামাল নুরুল হুদা, জেলা উপদেষ্টা শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বদর, বিএনপি নেতা ইশতিয়াক সিদ্দিকী, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, এমরান আহমদ চৌধুরী, আব্দুল আহাদ খান জামাল, সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, আব্দুস সালাম বাচ্চু, মাহবুবুল হক চৌধুরী, ডা. আশরাফ আলী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘জনগণ আমার শক্তি, উন্নয়ন আমার অঙ্গীকার’। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, সিলেটবাসী আমাকে ম্যান্ডেট দিলে আমি তাদের হতাশ করবো না। ইনশাআল্লাহ, আমি আমার লক্ষ্য পূরণে অবিচল থেকে সিলেটবাসীর ন্যায্য উন্নয়নের হিস্যা আদায় করতে সক্ষম হবো।
সিলেট মহানগরী ও সিলেট সদর উপজেলার গণমানুষের রায়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হতে পারলে আমি আমার ২২ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবো।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (সিলেট সদর ও মহানগর) আসনের এমপি নির্বাচিত হতে পারলে সিলেট নগরীকে আধুনিক বিশ্বের মত ফ্রি ওয়াইফাই সমৃদ্ধ সবুজ মহানগরী বা ‘গ্রীণ মেগাসিটি’ হিসেবে গড়ে তুলব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সিলেট মহানগরীতে একজন উদ্যমী মেয়র, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী থাকায় আমাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে আমি আশাবাদী। সিলেট নগরীকে ‘গ্রীণ মেগা সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নগরে সবুজায়নকে উৎসাহিত করা হবে এবং নগরীতে পরিকল্পিত বৃক্ষায়ণ করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেটকে আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। প্রাণপ্রিয় সিলেট যাতে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ‘আধ্যাত্মিক রাজধানী’ হিসেবে মর্যাদা পায় সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। সিলেটে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশী বিদেশী পর্যটকদের আরো আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বৃহত্তর সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগকে সুগম করে তুলতে আমি সচেষ্ট থাকবো। রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাথে সড়ক, রেল ও আকাশ পথে যোগাযোগ আরো উন্নত ও আধুনিক করা হবে। সিলেটের সাথে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরীর চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ দ্রুততর করার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, যানজট নিরসনে সিলেট নগরীকে ঘিরে রিং রোড স্থাপন ও গণপরিবহণের ব্যবস্থা করা হবে। সিলেট সদর উপজেলার প্রান্তসীমায় বিমানবন্দর সড়ক থেকে বাইশটিলা হয়ে টুকেরবাজার পর্যন্ত, একই পয়েন্ট থেকে খাদিমনগর হয়ে শাহপরাণ ব্রীজ পর্যন্ত এবং টুকেরবাজার থেকে দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার এবং শাহপরাণ ব্রীজ থেকে পারাইরচক হয়ে লালাবাজার পর্যন্ত সিলেট নগর ঘিরে একটি সার্কুলার রোড নির্মাণ করা হবে। যার ফলে, আন্তঃজেলা গাড়ীগুলো সিলেট নগরীকে বাইপাস করে চলাচলে সক্ষম হবে এবং সিলেট নগরীতে যানজট পুরোপুরি নিরসন হবে।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, তরুণ প্রজন্মের পেশাগত উৎকর্ষ সাধন ও কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক যুব প্রশিক্ষণ ইউনিট স্থাপন, তরুণদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি প্রশিক্ষণ ইউনিট, পশ্চিমা বিশ্বে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানীর লক্ষ্যে বিনামূল্যে শেফ ট্রেনিং এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কোর্স চালু করা, তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশের লক্ষ্যে সিলেটের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উচ্চতর অধ্যয়ণ ও গবেষনার সুযোগ সৃষ্টি করা ও আসন বৃদ্ধি করা, সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়কে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রত্যশা ব্যক্ত করেন খন্দকার মুক্তাদির। তিনি সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে বিজ্ঞান বিষয়সমূহে অনার্স কোর্স চালুর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
খন্দকার মুক্তাদির সিলেটের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য ‘সিলেট যাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন, যেখানে সিলেট সম্পকির্ত ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের পাশাপাশি সিলেট বিষয়ক যাবতীয় গবেষনাকে উৎসাহিত করা হবে।
সিলেটের অব্যবহৃত কৃষি ভুমি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের অনাবাদী জমিগুলোকে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসার ও আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে সিলেটের কৃষি জমিকে এক ফসলী থেকে দুই ফসলী এবং দুই ফসলী থেকে তিন ফসলীতে উন্নীত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান। সিলেটে একটি আধুনিক পূর্নাঙ্গ চিড়িয়াখানাসহ ইকোপার্ক স্থাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটে একটি অত্যাধুনিক মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন। এছাড়া, তিনি জানান, তিনি নির্বাচিত হলে সিলেট সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। সিলেট অঞ্চলে মাদকাসক্তি নিরাময়ে একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবকাঠামোগত এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধনের মাধ্যমে এই হাসপাতালে সংযুক্ত মেডিক্যাল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ক্যামোথেরাপী ও রেডিওথেরাপী চিকিৎসা এবং কিডনী রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা সহজতর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ। কিন্তু, ১০ বছরেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। আমি নির্বাচিত হলে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করবো।
সিলেটে কর্মজীবী নারী ও নি¤œ মধ্যবিত্তদের জন্য সহজ ও স্বল্পমূল্যে আবাসনের নিমিত্তে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সহযোগিতায় ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুণর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ প্রকল্গ গ্রহণ করার আশ্বাস দেন তিনি।
সিলেটের উন্নয়নে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, প্রবাসীদেরকে সিলেটে বিভিন্ন সেক্টর, যেমন- শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও পর্যটনে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহদানকল্পে একটি বিশেষ সেল গঠন করবো। প্রবাসীদের আইনী সহায়তার জন্য প্রশাসনের বিশেষ সেলকে আরো কার্যকর করা এবং প্রবাসীদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। বিমান বন্দর, কাস্টম্স ও অন্য কোন দফতরে প্রবাসীদের হয়রানী রোধকল্পে বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ সেবা চালু করবো। এছাড়া, শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য। সিলেটের গ্যাস, সিলিকা বালি, চুনাপাথর ইত্যাদি কাঁচামালকে কাজে লাগিয়ে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক শিল্পায়নকে উৎসাহিত করা হবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া, চা বাগান অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চা শ্রমিকদের রেশনিং, চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন খন্দকার মুক্তাদির। তিনি বলেন, সিলেটের হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘ দিনের দাবী চালিবন্দর স্মশানঘাটের আধুনিকায়ন। আমি নির্বাচিত হলে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সংশ্লিষ্টতায় নগরীতে আরো স্মশানঘাট স্থাপনের পাশাপাশি মরদেহ দাহ করার জন্য আধুনিক ক্রিমেশন পদ্ধতি স্থাপন করবো।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে একটি উন্মুক্ত পার্ক স্থাপনের দাবী দীর্ঘদিনের। আমি নির্বাচিত হলে শিশু, কিশোর ও মহিলাদের নিরাপদ ভ্রমণের উপযোগী একটি আধুনিক পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করবো। সিলেট নগরবাসীর বিনোদন ও বৈকালিক ভ্রমণের জন্য সুরমা নদীর দুই তীরকে দৃষ্টি নন্দন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সুরমা নদীর পানি প্রবাহ সারা বছর স্বাভাবিক রাখতে নদীর ড্রেজিং করা হবে এবংৃ সুরমার ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সুরমা নদীকে পর্যটকদের কাছে আকৃষ্ট করার জন্য নদী ভ্রমণ ও ভাসমান রে¯েঁÍারার ব্যবস্থা করা হবে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, যুব সমাজকে গঠনমূলক কর্মকান্ডের পথে ফিরিয়ে আনতে তাদেরকে বাস্তবমুখী জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা হবে আমার কাজের অন্যতম লক্ষ্য। দরিদ্র মানুষ তীর খেলার মত সমাজ বিধ্বংসী জুয়ায় আচ্ছন্ন। এ ধরনের জুয়া এবং অসামাজিকতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইয়াবা, হেরোইনের মত মাদকের বিস্তার প্রতিহত করে যুবকদের মাদকের প্রকোপ মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সিলেটের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সূচক, যেমন- প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হ্রাস এবং শিশু স্বাস্থ্যের অবস্থান ইত্যাদিতে সিলেটের পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে উঠতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান খন্দকার মুক্তাদির।
আগামীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সরকার ক্ষমতায় আসলে সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরকে প্রকৃত আর্ন্তজাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে জানিয়ে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ ও রিফুয়েলিং সিস্টেমকে যথাযথ মানে উন্নীত করা হবে, যাতে সকল ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট সহজভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।
সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নির্মাণ, সিলেট বিকেএসপি’র আধুনিকায়নসহ সিলেটে একটি স্বতন্ত্র ক্রিকেট/ফুটবল প্রশিক্ষণ একাডেমী প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন খন্দকার মুক্তাদির।
তিনি বলেন, এই ২২ দফা কর্মপরিকলপনা ছাড়াও আমার লক্ষ্য জাতীয় পরিমন্ডলে আইনের শাসন ও জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে নতুন নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন করা। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মের মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত গতিশীল সমাজ গড়ে তোলা যেখানে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পক্ষপাতহীনভাবে নিশ্চিত থাকবে। আমার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগামী দিনে প্রিয় সিলেটবাসীকে আমার সাথে পাবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সুনামগঞ্জ- উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হলেন

         পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের...

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাগো সিলেট আন্দোলনের বিবৃতি

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির...

সিলেটে বিজয র‌্যালি

        বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের...

২০০৬ সালের ২ মার্চের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো টিলাগড়

         সিলেট নগরীর টিলাগড় নানা...