আমাদের বিবিআইএস-এর বার্ষিক পিকনিক

প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সারাহ সানজিদা: স্কুলের বার্ষিক পিকনিকের জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকি । এ দিনটি থাকে একটু আলাদা । বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলের বাইরে ঘোরা,মজা করা,রাইড চড়া,গান শোনা–সব মিলে মজার একটা দিন ।
গত মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) ড্রিমল্যান্ড বিনোদন পার্কে আমাদের বৃটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এবারের বার্ষিক পিকনিক হয়ে গেল । সকাল সাড়ে দশটায় মদিনা মার্কেটের মেইন ক্যাম্পাস থেকে আমাদের বিশটি বাস যাত্রা শুরু করে । ছয়শ’ ছাত্র-ছাত্রির বড় বহর । অভিভাবক ও অন্যান্যজন আরো একশো । সবার মধ্যে আনন্দ,বাধভাঙ্গা হৈ হুল্লোড় !
আমাদের ডায়নামিক প্রিন্সিপাল স্যার জাহাঙ্গীর আহমদ চৌধুরী সবাইকে বিদায় করে শেষে রওয়ানা হন। আমার বাবা ও আরো ক’জন অতিথি স্যারের সঙ্গে আসেন । ভাইস প্রিন্সিপাল এ কে এম মাহমুদুল হক স্যার খুব আন্তরিকতা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন । জুনিয়র ক্যাম্পাসের ইনচার্জ নাজভিন আক্তার তদারকিতে ব্যস্ত ছিলেন । আমরা গাড়িতে উঠছি কি না,কেউ বাদ পড়ছে কি না–তার চিন্তার শেষ নেই! মাহবুব স্যার মাইক দিয়ে গাড়িতে ওঠার নির্দেশনা দেন । আমি উঠি নয় নম্বর বাসে । আমার পাশে বসে সোমা । আমাদের স্ট্যান্ডার্ড ফোর-এর সবাই এ বাসে । আমার ছোট ভাই সাইফান এক নম্বর বাসে,সে প্লে-তে পড়ে । তার সাথে আমার মা-ও যান । প্লে থেকে কেজি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের একজন অভিভাবক ফ্রি যেতে পারেন । গাড়িতে ওঠেই মজার নাস্তা হাতে পাই ।
আজ পুরো পার্ক আমাদের দখলে! বাম্পার কার,ভাইকিং বোট,থ্রিডি মুভি,মেরী গো রাউন্ড,প্যারাট্রুপার-চড়ে বেশ মজা পাই । এগুলো ছিল আমাদের জন্য নির্ধারিত । টাকা দিয়ে অন্য রাইডও চড়া যায় । আমি বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সুপার চেয়ার চড়তে গিয়ে পড়ে যাই । তখন এটি কেবল চলা শুরু করে,জোরে চলার সময় পড়লে বড় বিপদ হতে পারতো! আমার বাবা শুনে অনেক রাগ করেন । বিপদজনক রাইডে না ওঠা উচিত । অভিভাবকের আড়ালে গিয়ে রাইডে ওঠা মোটেই
ঠিক নয় । দুপুরে চিকেন বিরিয়ানি,ফিরনি দিয়ে ভোজ হয় । মাহবুব আংকেল ড্রিংক এবং কয়েস আংকেল বুরহানি দিলে খাওয়াটা উপভোগ করি দারুণ!
আলফি
আপু,মিশকাত,উৎস,নাইমা,তাসনিম,তাহারাত,সাইফান–আমরা একসাথে খাই ।
আমি,সোমা,মাওয়া,নিশাত,তানিশা,নাফিসা,তাসিন,আবু বকর,অর্পিত মিলে পুরো পার্ক ঘুরে বেড়াই! অন্যরাও বসে থাকে নি,যার যার মতো মিলেমিশে বেড়ায় ।
বিকেলে খোলা মন্চে বসে গানের আসর । আমাদের ক্লাসবন্ধু ফারজান প্রথমে গান গায়–ঘুমাইয়া ছিলাম ছিলাম ভালো,জেগে দেখি বেলা নাই…
সে অনেক হাততালি পায় । এমরাজ স্যারও অনেক সুন্দর গান করেন । পরে শিল্পী মিথিলা গান করেন । তার গান ছিল—যেখানে সীমান্ত তোমার সেখানে বসন্ত আমার,দিও তোমার মালাখানি বাউলের মনটারে,কোন মেস্তরি নাও বানাইল কেমন দেখা যায়…সবাই নাচতে থাকে,গাইতে থাকে । অনেক আনন্দ হয় আমাদের । স্বপন,বাবুল,জাবেদ,শফিক,তাহেদুর,বেলাল আংকেলরা ছবি তোলে,ভিডিও করে আমাদের অনুষ্ঠান স্মৃতি করে রাখেন । দিনটা খুব গরমের ছিল,কিন্তু আনন্দ থাকায় আমরা গরম টের পাই নি । আমাদের প্রায় সব শিক্ষক গিয়েছিলেন । আমি কয়েকজনের নাম বলছি–জাসতানা,নাহিদা,তাহমিনা,নাহিদা, তানিয়া, প্রিয়াংকা,প্রসেনজিৎ,গীতা,সুক্তি,সুমনা,রিয়াদ,ফারহানা, রাবেয়া,ফাহিয়া,নিশাত,সিন্ডি,বেলাল,বাবুল,জুবায়ের,রাসেল,সুমন,ছালেহ,তারেক,ফেরদৌসি,লিজা,জহির,আলাওর,কামরুল ও বিজিত স্যার । কিছুতে ভুল হলে আমি সরি ।পিকনিকের কোঅরডিনেটর ছিলেন মেহরিন মতিন চৌধুরী শান্তা মিস ।
সারাদিনের আনন্দ শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে প্রিন্সিপাল স্যার বিদায়ী বক্তব্য দেন । তিনি আমাদের ধন্যবাদ দেন,আমরা দুষ্টুমি না করে আনন্দে আনন্দে দিন কাটানোর জন্য । পড়ালেখার পাশাপাশি আনন্দ-ভ্রমনের দরকার আছে বলে স্যার জানান । পরে সব স্যাররা একসাথে ছবি তোলেন । সন্ধ্যায় হাউজিং এস্টেট ক্যাম্পাসে এসে সব গাড়ি থামে । তারপর আমরা বাসায় আসি ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কালিবাড়ী এলাকায় জালালাবাদ ইমাম ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

         সমাজের অসহায় দরিদ্র মানুষজন আমাদের...

যুগে যুগে সিলেটের নির্যাতিত সাংবাদিক

         সেলিম আউয়াল: ইস্ট কোম্পানি ভারত...