আমরা কি জঙ্গলে বসবাস করছি -লাহোরে ধর্ষিতাকে দায়ী করায় ক্ষেপেছেন সেলিব্রেটিরা

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ২ সপ্তাহ আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: লাহোরে গণধর্ষিতাকে পুলিশ দায়ী করায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন সেলিব্রেটিরা। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই ধর্ষিতাকে দায়ী করায় বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তাতে পাকিস্তানে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে অনেক পাবলিক ফিগার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাতে ধর্ষণকারীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়ার দাবি তোলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। এতে বলা হয়েছে, এই ক্ষোভ আরো উস্কে দিয়েছে লাহোরে নবনিযুক্ত পুলিশ প্রধান উমর শেখের বিতর্কিত মন্তব্যে। বৃহস্পতিবার সকালে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি ধর্ষিতাকে আরো বিচক্ষণ হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, আমাকে যেটা বেশি বিস্মিত করেছে তাহলো তিন সন্তানের মা ওই নারী একজন প্রাপ্ত বয়স্ক গাড়ির চালক ছাড়া রাতের বেলা বের হয়েছেন। তিনি কেন জিটি রোড দিয়ে যাননি, যে রোডে সব সময় মানুষজন থাকে? আর কিছু না হলেও, তার উচিত ছিল গাড়ির জ্বালানি পরীক্ষা করে নেয়া।
ধর্ষিতাকে এভাবে দায়ী করে মন্তব্যের কারণে পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবি উঠেছে নাগরিকদের পক্ষ থেকে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সেলিব্রেটিরাও। তারাও এর কড়া সমালোচনা করেছেন। পুলিশের এমন মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন অভিনেতা ওসমান খালিদ বাট। তিনি বলেছেন, পুলিশের এমন মন্তব্য দেশের নারীদের জন্য আরো ভয়াবহতা নিয়ে আসবে। ওসমান বাট বলেন, আমাকে বলুন তো এমন মন্তব্যে কি আপনার শিরদাড়ায় কি কাঁপন লাগেনি! এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে যে, নারীদের জন্য নিরাপদ নয় পাকিস্তান। আর আমাদের সঙ্গে এটি হতেই থাকবে। পুলিশ কর্মকর্তার ওই বিতর্কিত মন্তব্য শেয়ার করে তিনি এসব কথা বলেছেন।
এমন ঘটনায় ভিকটিমকে দায়ী না করে অন্য অনেককে দায়ী করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী মানশা পাশা। তিনি বলেছেন, প্রথম অপরাধটি করেছে ধর্ষকরা। দ্বিতীয়ত, তাদেরকে দায়ী করতে হবে, যারা ওই নারীকে দায়ী করছেন। তৃতীয়ত, দায়ী ওইসব কর্মকর্তারা, যারা কিছুই করছেন না। আর যারা কিছুই বলছেন না, তারা হলেন চতুর্থত দায়ী। শুধু দায়ী নন, ধর্ষিতা।
অভিনেত্রী আয়েশা ওমর উল্লেখ করেন, তিনি একজন নারী হিসেবে বিদেশের দেশগুলোকে কতটা নিরাপদ মনে করেন। একজন নারী যদি জরুরি প্রয়োজনে রাতে বাইরে যান, তাহলে তাতে সমস্যাটা কোথায়! যদি তার অথবা তার পরিবারের কারো জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হয় তাহলে তিনি কি করবেন? আমি তো বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে রাত একটার সময় রাস্তায় হাঁটতে পারি এবং পুরো নিরাপদ বোধ করি। কিন্তু এটা আমার নিজের দেশে নেই। এমনকি গাড়িতে থাকলেও না।
অভিনেত্রী মেহয়িশ হায়াতও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সামষ্টিক মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এসব ঘটনায় শাস্তি দিয়ে কিছু হবে না। কিভাবে সিঙ্গাপুরের মতো দেশে ভোর ৪টার সময় কাজ শেষে একজন নারী নিরাপদে হেঁটে বাসায় পৌঁছেন? আমাদের মধ্যে কেন নিরাপত্তার সেই ধারণার জন্ম হয় না? আমরা কি সভ্য সমাজে বসবাস করছি নাকি জঙ্গলে? আপনারা সবাই যদি ধর্ষকদের প্রকাশ্য ফাঁসির দাবিতে চিল্লান আর যদি মানসিকতার পরিবর্তন না হয় তাতে কোনো কাজ হবে না। সূত্র: মানবজমিন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেটের ১২ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী যারা

         সিলেটের ১২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন...

আমিরাতে সিলেট প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সংবর্ধনা

         লুৎফুর রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে...

পদ পেতে মরিয়া সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা

         ওয়েছ খছরু সিলেট আওয়ামী লীগের...