আব্বু

প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিদহাদ আহমদ:
আমার আব্বুকে নিয়ে বেশি কিচ্ছু আমি কখনোই বলি না। লেখিও না। এই একজনকে আমি যতোটা ভয় পাই, একজীবনে আর কোন মানুষকে আমি ঠিক ততোটা ভয় পাইনি।
আব্বু প্রচণ্ড রাগি একজন মানুষ। ঠিক তার বিপরীতে প্রচণ্ড কোমল মনেরও একজন। আব্বুকে সবসময় দেখতাম, বাস্তববাদী চিন্তা নিয়ে চলতে। রাস্তায় চলার পথে একটা কলার খোসা দেখলেন, তো আব্বু নিজ হাতে সেই খোসাটা তুলে নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে আসবেন।আশেপাশে ডাস্টবিন না পেলে বাসা পর্যন্তও নিয়ে আসবেন সেই কলার খোসাটা।
একবার হয়েছিলো কি, আমি ক্লাস থ্রি-তে ছিলাম তখন। বাসার তিনতলার জানালা দিয়ে বাইরের দিকে চিপসের একটা খালি প্যাকেট নিচে ফেলে দেই। আব্বু বাসার নিচেই ছিলেন। তিনি দেখলেন সেইটা। সাথেসাথেই বাসায় এসে সে কী এক চিৎকার আর চড়-থাপ্পড় দেওয়া! ভাবতে গেলেই আমি শিউরে উঠি। ব্যস। শিক্ষা একজীবনের জন্য হয়ে গেলো।
আব্বুর হাতে ঠাস ঠাস চড় আমি আমার জীবনে যতোটা খেয়েছি, সেইটা আর কেউ তার বাবার হাতে খেয়েছে বলে মনে হয় না। যখন ছোট ভাই আর বোন বড় হলো, দেখতাম আব্বু তাদেরকে আমার মতো চড় দেন না। এই বছর দুয়েক আগেও সেইটা নিয়ে বুকের মধ্যে চাপা অভিমান ছিলো। এখন বুঝতে শিখেছি, আমি আব্বুর বড় ছেলে হওয়ায় আমার উপর আব্বুর একসেপ্টেশন বেশি ছিলো। আমার সামান্য ভুলও আব্বু মেনে নিতে পারতেন না, এখনও পারেন না।
চা বানানো নিয়ে আব্বুর কত যে ফাই-ফরমায়েশ! ক্লাস ফোর ফাইভের সময়ে চা পাতলা হয়ে গেলে আব্বু বলতেন, আবার বানিয়ে নিয়ে আয়। আবার বানাতাম। এই থেকেই শেখা।
বাসার কাজে আম্মুকে হেল্প করা, সেটাও আব্বু শিখিয়েছেন। প্রচণ্ড ওয়াইফ কেয়ারিং মানুষ বলা চলে আব্বুকে।
ক্লাস ফাইভ সিক্সের ছিলাম যখন, তখনই বাসার ব্রেড-বিস্কুট দোকান থেকে আমি গিয়ে নিয়ে আসতাম। রাত নয়টা-দশটায় একা একা মোড়ের মুখের দোকানে চলে যেতাম ব্রেড-বিস্কুট আনার জন্য। সেটাও আব্বুর জন্য। আম্মু ভয় পেতেন, আব্বু বলতেন যাক। পারবে আমার ছেলেটা।

এখন হলফ করে বলবো, আব্বুর চাইতে বাজার-হাট আমিই ভালো পারি। আম্মুও বলেন, বাপের চাইতে ছেলের বাজার ভালো হয়।

আব্বুকে একটা কারণে হিংসেও হয় প্রচুর। মানুষের বয়স বাড়ে, আর আমার আব্বুর বয়স সেই ত্রিশ-পঁয়ত্রিশে আটকে আছে যেনো। এতো সুন্দর থাকতে নেই যে! ছেলেপিলে বড় হচ্ছে, এখন তো একটু সুন্দর কমুক তাঁর।
আম্মুরও হয়েছে এই এক, বারবার বলেন বাপের মতো সুন্দর হইতে পারলা না এখনও। তা তোমার জামাই এতো সুন্দর হইছে আমি করবোটা কী?

সামনাসামনি আব্বুর সাথে রসিকতা, কিংবা ফ্রেন্ডলি হওয়া, বাব্বাহ! সেইটা এক বিশাল যজ্ঞ হবে আমার জন্য। এই মানুষকে ভয় পাই প্রচণ্ড। আব্বু আমার শিক্ষার জন্য এক প্রকাণ্ড বটবৃক্ষ।
ভয় পাই, তবুও ভালোবাসি।
ভালোবাসা আব্বু। খুব চাই, এরকমই থাকো একজীবন।
দোয়া রাখবেন আমার আব্বুর জন্য। আল্লাহ আমার আব্বুর শরীর সবসময় ভালো রাখুক। হাসিখুশী বয়স ত্রিশ ওয়ালা আম্মুর সুন্দর স্বামী হিসেবেই রাখুক আব্বুকে সবসময়।

বাবা দিবসের শুভেচ্ছা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেটে ৪৭তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেটের...

এস আর ক্যাপিটাল লি এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সিএসই চেয়ারম্যান

         জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশে সরকারের সাবেক...

বালাগঞ্জে রমজানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ খেলাফত মজলিসের

          সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দুটি...