আফতাব চৌধুরী এক অভিনিবিষ্ট বৃক্ষপ্রেমিক

প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 181
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    181
    Shares

সাঈদ চৌধুরী :
সাংবাদিক-কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী একজন সব্যসাচী লেখক ও অভিনিবিষ্ট বৃক্ষপ্রেমিক। শরীর-মন সুস্থ রাখার জন্য গাছপালার ভূমিকা যে ব্যাপক- এটা তিনি অন্তপ্রাণে বিশ্বাস করেন। নিজেদেরকে এবং প্রকৃতিকে শান্ত-স্নিগ্ধ, সবুজাভ রাখতে হলে বেশি বেশি গাছ লাগানো আবশ্যক। বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে ও টেকসই জীবন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। এটি মানবতার প্রতি ভালোবাসার অংশ। আর এজন্য তিনি নিজের অর্থায়নে রোপণ করছেন ফলদ ও বনজ বৃক্ষ।
বৃক্ষরোপণে অন্তপ্রাণ আফতাব চৌধুরী চার দশক ধরে বিরামহীন ভাবে এ কাজটি করে চলেছেন। বছরের পর বছর ধরে আম, জাম, লিচু, পেয়ারা, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম সুস্বাদু ফলমূল রোপণ করেন সর্বত্র। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা সবখানে। গাছ লাগানোই যেন তার নেশা। তারই প্রেরণায় সিলেট উপশহরে অনেকেই তাদের বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন রকম গাছ লাগাতে শুরু করেছেন। আর তিনি হয়ে ওঠেছেন সকলের কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ। ‘বৃক্ষপ্রেমিক’ নামেই অর্জন করেছেন সুনাম ও সুখ্যাতি।
১৯৯৮ সালের ২৪ মার্চ আফতাব চৌধুরী জাতীয় স্বর্ণপদকে (১ম পুরস্কার) ভূষিত হয়েছেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করেন।
১৯৫০ সালের ১৫ এপ্রিল সিলেটের এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আফতাব চৌধুরী। পড়ালেখা শেষে লেখালেখি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন সমান্তরালে। আশির দশক থেকে সিলেট প্রেসক্লাবের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত। বার বার নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী কমিটিতে এক সাথে অনেক কাজ করেছি।
৬ বার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সিলেট প্রেসক্লাব ও অনলাইন প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য। ব্যক্তিগত জীবনে পরোপকারী, পরিশ্রমী ও ধর্মপরায়ন। সততা, অধ্যবসায় ও সময়ানুবর্তিতা তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
আফতাব চৌধুরী অনেকগুলো বই লিখেছেন। প্রকাশিত ১ম গ্রন্থ ‘ইদানিং’। ১৯৯২ সালের অক্টোবর মাসে এটি প্রকাশিত হয়। বইটির প্রকাশক সিনিয়র কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ হায়দার খান। তিনি লিখেছেন, ‘আমি লেখক নই, পাঠক। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত আফতাব চৌধুরীর লেখায় সমাজের সম-সাময়িক সজীব চিত্র দেখে আমি পাঠক হিসাবে মুগ্ধ হই। তিনি লেখক এবং সাংবাদিক। জানতে পারি আরো কিছু পরিচয়, তিনি সৎ ও সফল ব্যবসায়ী। সর্বোপরি সংবেদনশীল হৃদয়বান সমাজসেবী এবং বৃক্ষপ্রেমিক। আমার কাছে অবশ্য তার লেখক সত্ত্বার পরিচয়ই বড়। পুস্তকে সংকলিত নিবন্ধগুলো চলমান সময়ের একটি ছবি। কোথাও কোথাও ক্ষোভ এবং ঝাজ আছে, তবে তা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়। তাই আশা করি পাঠক বৃহত্তর স্বার্থে তিক্ত মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণকে উদার চিত্তে গ্রহণ করবেন।’
১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয় আফতাব চৌধুরীর ২য় গ্রন্থ ‘সত্যের মুখোমুখি’। এ বইয়ের ভূমিকায় বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল লিখেছেন, ‘সমাজ-সভ্যতার সমস্যা ও সম্ভাবনা থেকে কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকগণ তুলে ধরেন তাদের সৃষ্টি কর্ম। সাংবাদিক আফতাব চৌধুরীর লেখালেখির বিষয়বস্তু সমাজ ও সমাজের মানুষ। আমাদের চারপাশে হাজারো সমস্যা ঘিরে আছে। এসব সমস্যা ও সম্ভাবনাই আফতাব চৌধুরীর লেখালেখির বিষয়-আশয়।’
‘সত্যের মুখোমুখি’ সম্পর্কে কথা সাহিত্যিক শাহেদ আলী লিখেছেন, ‘আফতাব চৌধুরী একজন আত্মপ্রত্যয়ী লেখক, খ্যাতনামা সাংবাদিক ও কলামিস্ট। তার লেখাগুলোতে স্বচ্ছ মনের প্রতিফলন দেখা যায়। তার লেখায় হট্টগোলের অবকাশ নেই, নিরপেক্ষতা আছে। আছে স্বচ্ছতাও।’
আফতাব চৌধুরীর ৩য় গ্রন্থ ‘আলোর সন্ধানে’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ’হাল আমলে সাংবাদিকতা, সাহিত্য-সাধনা, পত্র-পত্রিকায় নন্দিত কলাম লেখা, সমাজসেবা, বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আফতাব চৌধুরী সুধী মহলের প্রশংসা ও পরিচিতি লাভ করেছেন। তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক বহুভাবে পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হয়েছেন। পাঠক সমাজ আফতাব চৌধুরীর লেখা পাঠে বৈচিত্রের স্বাদ পেয়ে থাকেন। তার লেখার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লেখক যেভাবে যা বুঝেছেন এর বিষদ ব্যাখ্যা নয় এর চুম্বক রেখাচিত্র তার লেখায় অভিব্যক্তি লাভ করেছে। লেখকের ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল, কোথাও জড়তা বা হেঁয়ালি নেই। প্রত্যেকটি লেখায় একটি পরিচ্ছন্ন ভাব ও দরদী মনের ছাপ পাওয়া যায়, যা একজন লেখকের লেখনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য’।
বইটি সম্পর্কে দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ লিখেছেন, ‘সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী খানদানি পরিবারে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষিত মানুষ। সাংবাদিকতাকে নেশা হিসাবে নিয়ে স্বীয় প্রতিভা ও অধ্যবসায় বলে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের একজন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার লেখার মধ্যে আছে আবেগ, আছে অনুভূতি। ভাষা মোলায়েম। বইটি পড়ে আন্দাজ হলো তার মধ্যে নানা রকম প্রতিভা লুক্কায়িত আছে এবং একদিন তা প্রকাশ পেয়ে সমাজ ও জাতির কাজে লাগবে। বৃক্ষরোপণের জন্য মুল্যায়ন করে তাঁকে জাতীয় স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়েছে। এজন্য আমি খুশি হয়েছি। ক’জনের ভাগ্যে এ সম্মান জুটে? তিনি শুধু বৃক্ষপ্রেমই নয়- সমাজ ও দেশের সার্বিক কল্যাণে প্রকৃত অর্থেই একজন কলমযোদ্ধা। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আশা করি তার পরশ থেকে দেশ ও জাতি নানাভাবে উপকৃত হবে।’
২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয় আফতাব চৌধুরীর ৪র্থ গ্রন্থ ‘ইতিকথা’। এ সম্পর্কে গণমানুষের কবি দিলওয়ার বলেছেন, ‘গ্রন্থখানি লিখেছেন জীবনের প্রতি পরোক্ষভাবে একান্ত অনুরক্ত প্রিয় মানুষ আফতাব চৌধুরী। তার আরো পরিচয় আছে, তিনি সাংবাদিক, কলামিষ্ট, সমাজসেবী, নিবন্ধকার, বৃক্ষপ্রেমিক ইত্যাদি। জাতীয় ভাবে এ জন্যে স্বীকৃতিসহ পুরস্কৃতও হয়েছেন। বৃহত্তর সিলেটে সম্পদের অধিকারী হয়েও যে ক’জন ব্যক্তি লেখালেখির মাধ্যমে সমকালের ধারায় নিজেদের নাম উল্লেখযোগ্য ভাবে রেখে যেতে চান আফতাব চৌধুরীকে তাদের একজন বলে গণ্য করা যায়। আফতাব চৌধুরী ১৯৭৫ সাল থেকে অব্যাহত ভাবে চুটিয়ে লিখছেন। সময় একদিন নির্ধারণ করবে তার লেখাগুলোর প্রকৃত গুণাবলী। তবে আমি বলতে বাধ্য যে, তার হাত থেকে মুষলধারার শব্দের বৃষ্টি বর্ষণ দেখে আমি কিছুটা বিস্ময় বোধ করেছি এবং এখনও করি।’
কবি দিলওয়ার মিঃ চার্চিলের রচনা থেকে উদ্ধৃত করেন, This is not the end, this is begining of the end অর্থাৎ এটা শেষ নয়, সমাপ্তির শুরু। তিনি প্রীতিভাজন আফতাব চৌধুরীর লেখনীর সৃষ্টি ক্ষমতাকে অভিনন্দিত করে জাতীয় মানসিকতার আন্তর্জাতিক ব্যাপ্তি কামনা করেছেন।
আফতাব চৌধুরীর ৫ম গ্রন্থ ‘জীবন ও জগৎ’। প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের জুলাই মাসে । বইটির ভূমিকায় ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী লিখেছেন, ‘জীবন ও জগৎ গ্রন্থের লেখক সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী হাল আমলে লেখালেখির সুবাদে দেশে ও বিদেশে স্বনামেই পরিচিত। পত্র-পত্রিকায় তার লেখা, মননশীল প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলো ইতিমধ্যে সুধী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
‘জীবন ও জগৎ’ গ্রন্থটি পড়ে বাংলাদেশ অবজারভার এর প্রাক্তন সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক ওবায়েদ উল হক বলেন, বইটির লেখক দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক। তার সাথে আমার পরিচয় ৮০এর দশক থেকে। মাঝেমধ্যে তিনি বাংলাদেশ অবজারভারেও লিখতেন। ১৯৮০ সালে আমরা একই সঙ্গে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীন ভ্রমণের সুযোগ পাই। চীন থেকে ফিরে এসে তিনি একটি ভ্রমণ কাহিনী লিখেন। ঢাকার কোনও এক জাতীয় পত্রিকায় লেখাটি প্রকাশিত হয়। লেখাটি পড়ে আমি মন্তব্যে লিখেছিলাম আফতাব চৌধুরী একদিন দেশের একজন খ্যাতনামা লেখক হিসাবে পরিচিতি লাভ করবেন, আজ তার লেখা ‘জীবন ও জগৎ’ বইটি পড়ে তার প্রতিফলন অনুভব করলাম। অশেষ অভিনন্দন আফতাব চৌধুরীকে। আমি তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ূ কামনা করছি।’
বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা কাজী ফজলুর রহমান লিখেছেন, সাংবাদিক আফতাব চৌধুরীর ‘জীবন ও জগৎ’ বইটি পড়লাম। বইটির লেখার মান অনেক উন্নত এবং বিষয় ভিত্তিক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে লেখা বইটির ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল, উপস্থাপন চমৎকার। আফতাব চৌধুরীকে আমি জানি ১৯৬৬ সাল থেকে। তিনি তখন ছাত্র আর আমি সিলেটের জেলা প্রশাসক। মাঝে মধ্যে আসতেন, কথা বলতেন, জানার আগ্রহ ছিল, শিখারও ছিল ইচ্ছা। বইটিতে জানার এবং শিখার অনেক কিছু আছে। বিভিন্ন বিষয়ে রেফারেন্স হিসেবে বইটিকে কাজে লাগানো যায়। যে কেউ বইটি পড়লে উপকৃত হবেন, সন্দেহ নেই। বইটি সংরক্ষণে রাখলে ভবিষ্যতে গবেষণার কাজে লাগবে।’
আফতাব চৌধুরীর ৬ষ্ঠ গ্রন্থ ‘কৌতুক’। প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে। এ গ্রন্থে লেখকের বহু দিনের অনুসন্ধানি শ্রমের ফসল ৪৭০ টি কৌতুক স্থান পেয়েছে। এগুলো নিছক হাস্য কৌতুক নয়। এতে লুক্কায়িত রয়েছে অনেক শিক্ষনীয় বিষয়-আশয়। রবীন্দ্রনাথ খুব সম্ভবত তাই বলেছেন, তোমারে পাছে সহজে বুঝি/তাই কি এত লীলার ছল-/বাহিরে যবে হাসির ছটা/ভিতরে থাকে আঁখির জল।
কৌতুক বইটি পড়ে ডাক ও তার বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক বিশিষ্ট রম্য লেখক অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, ‘হাসাহাসি সম্পর্কে বিশ্বের তাবৎ জ্ঞানী-গুণীরা অনেক গুরু-গম্ভীর কথাবার্তা বলে গেছেন। যেমন হাসির রাজা মার্ক টোয়েন বলেন, ‘মানুষই হচ্ছে একমাত্র প্রাণী যে হাসে এবং যার হাসির প্রয়োজন আছে।’
অধ্যাপক কবি ও গীতিকার ড. মনিরুজ্জামান কৌতুক বই পড়ে মন্তব্যে লিখেন, ‘আফতাব চৌধুরীর বিভিন্ন রকম প্রতিভা আমাকে অভিভুত করেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আমি তার লেখা কলাম বিশেষ করে পরিবেশ সংক্রান্ত লেখা নিয়মিত পড়ে থাকি। তার সঙ্গে আমার পরিচয় বাংলা একাডেমীতে বার্ষিক জলসায়, তখন তিনি আমাকে বইটি উপহার দেন। বইয়ে তার পরিচয় ও গুণীজনের মন্তব্যগুলো আমি আদ্যপান্ত পড়ে নেই। মনে হলো তিনি শুধু স্বনামধন্য সাংবাদিক ও কলামিস্ট বা পরিবেশবিদ নয়, তার সদাচরণ ও সহজ চলাফেরার জন্য সকলে তাকে আদরের চোখে দেখেন। আমি তার সাফল্যের জন্য কায়মনোবাক্যে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে দোয়া করি।’
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয় আফতাব চৌধুরীর ৭ম গ্রন্থ ‘নির্বাচিত কলাম’। শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক বিশিষ্ট লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী লিখেছেন, ’আফতাব চৌধুরী শুধু সাংবাদিক কিংবা কলামিস্ট নন- তিনি সময়ের একজন সাহসী সন্তানও বটে। সময়ের সাহসী সন্তান বলছি এ কারণে, তার কলম ক্ষুরধার। সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে অবিরাম লিখে চলেছেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। তার লেখা শুধু বিশ্লেষণধর্মী নয়, অনেক ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা মূলকও। সাহিত্য ক্ষেত্রে তার বিচরণ সমানতালে। সাহিত্যের আলোক স্তম্ভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম ও বেগম রোকেয়া সহ অনেক সাহিত্য ও বিজ্ঞান মনীষীকে নিয়েও তার রচনার ভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ। বয়সে তিনি প্রায় প্রবীণ কিন্তু তার চলাফেরা ও লেখালেখি একজন সজীব-প্রাণবন্ত তরুণের মতোই। আফতাব চৌধুরীকে শুধু একজন সাংবাদিক, কলামিস্ট, বিশ্লেষক কিংবা সাহিত্য-গবেষক হিসাবেই গন্ডিবদ্ধ করে রাখার উপায় নেই। তিনি একজন পরিবেশবাদী, ভ্রমণপিপাসু ও বৃক্ষপ্রেমিক। অসংখ্য বৃক্ষ তার হাতের যত্নে বেড়ে উঠেছে যা বিপুল মানুষের প্রাণ জুড়ায়, সরবরাহ করে অক্সিজেন। এ বৃক্ষরাজি জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধিতে রেখে চলেছে বিশেষ অবদান। এ জন্য তিনি স্বীকৃতিও পেয়েছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে। বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি ১৯৯৮ সালে পেয়েছেন জাতীয় পুরষ্কার স্বর্ণপদক।’
বইটি পড়ে বিখ্যাত নজরুল গবেষক কবি আব্দুল মান্নান সৈয়দ বলেন, ’নির্বাচিত কলামে মলাটবন্ধ লেখাগুলো উচুমানের। অবশ্য ঢাকার ১ম শ্রেণীর জাতীয় পত্রিকাগুলোতে আমি নিয়মিত আফতাব চৌধুরীর লেখা পড়ি। তার প্রতিভা বহুদুর, বহুভাবে বিস্তৃত। সিলেটে অবস্থান না করে রাজধানী ঢাকায় থাকলে তিনি আরও ভাল করতেন- সম্মানিত হতেন নানাভাবে।’
নির্বাচিত কলাম বইটি পড়ে তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ’আফতাব চৌধুরীর লেখা বইটি পড়ে আমি আলোকিত হয়েছি। বইটি আমাকে প্রচুর আনন্দ দিয়েছে। আমার জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি অকপটে স্বীকার করি জাতি তার লেখা থেকে উপকৃত হবে এবং সঠিক সময়ে তাকে মূল্যায়নও করা হবে।’
আফতাব চৌধুরীর ৮ম গ্রন্থ ‘নজরুল প্রতিভার নানা দিগন্ত’। প্রকাশিত হয় ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে। এ বইয়ের ভূমিকা লিখতে গিয়ে দেশের প্রখ্যাত নজরুল গবেষক সংগীত ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা জামান আব্বাসী বলেন, ’ভাল লাগছে জেনে, বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চিন্তাবিদ আফতাব চৌধুরী নজরুলকে নিয়ে রচনা করেছেন নতুন গ্রন্থ নজরুল প্রতিভার নানা দিগন্ত। লেখক আফতাব চৌধুরীর বক্তব্য পাঠ করে জেনেছি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তার অনুরাগের কথা। আমার মত একজন অভাজনের কাছে তার গ্রন্থের উদ্দেশ্যে শুভ কামনা জানানোর সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য।’
সাবেক আইজিপি ও তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মোঃ আনোয়ারুল ইকবাল পিপিএম বলেন, সাংবাদিক আফতাব চৌধুরীর নজরুল প্রতিভার নানা দিগন্ত বইটি আমার পড়ার টেবিলে। বইটি পড়ে লেখকের প্রতিভার প্রশংসা করতেই হয়। তিনি আমার পূর্ব পরিচিত, আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক, সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম। ১৯৮৭-৮৮ সালে আমি সিলেটের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করি। তিনি তখন সিলেট প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আফতাব চৌধুরী সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে সক্রিয় ছিলেন, জানি এখনও আছেন। আমার জানা মতে তিনি রাজনীতি করতেন না হয়ত এখনও করেন না। আর এজন্য সব রাজনৈতিক দল এবং সরকারের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল এবং এখনও আছে।’
জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত আফতাব চৌধুরী সৎ, স্পষ্টভাষী, সত্যবাদী, পরিবেশ নিয়ে গবেষনারত দেশপ্রেমে নিবেদিতপ্রাণ একজন সাংবাদিক এবং নিয়মিত কলাম লেখক। জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা প্রায় প্রতিদিনই আমরা পড়ি। দিক নির্দেশনা ও পরামর্শমূলক লেখাগুলো সরকারের বিবেচনায় আসে অনেক সময়ই। বৃক্ষরোপন, রক্ষণাবেক্ষন ও পরিচর্যা করে বনাঞ্চল সৃষ্টির প্রয়াসে তার অবদান সকল মহল ও পর্যায়ে প্রশংসিত। সরকারকে এ ব্যাপারে দিক নির্দেশনাও দিয়ে থাকেন তিনি। নজরুল প্রতিভার নানা দিগন্ত বইটি গবেষনামূলক, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সমৃদ্ধ। শ্রম ও মেধা ব্যয় করে তার লেখা এ বইটি পড়ে পাঠককূল উপকৃত হবেন, সন্দেহ নেই। বইটি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ থাকল। নজরুল প্রতিভার নানা দিগন্ত গ্রন্থে লেখক জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সামগ্রিক সৃষ্টিধারা নিয়ে চুম্বকধর্মী আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বংশধরদের কাছে তাঁকে উপস্থাপনের চেষ্টা করে সফল হয়েছেন।’
’প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘ’ বইটি আফতাব চৌধুরীর ৯ম গ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের জুন মাসে। বইটির ভূমিকায় প্রখ্যাত লেখক ও শিশু সাহিত্যিক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘ বইটি প্রায় দুই বছরের লেখালেখির একটি সংকলন। সব লেখাই আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে। লেখাগুলোর শিরোনাম দেখে তার রাজনৈতিক বিশ্বাস অনুমান করা যায় এবং তিনি কেন প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘের ছায়া দেখেছেন সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠে।
আমাদের দেশের অল্প কিছু বুদ্বিজীবি আসলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামান, লেখালেখি করেন আরো কম। সে কারণে পত্র-পত্রিকা এই শূন্যস্থান পূরণ করে বিদেশী সাংবাদিক, বিশ্লেষক আর বুদ্ধিজীবিদের লেখালেখি দিয়ে। সে হিসাবে আফতাব চৌধুরী একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। লেখাগুলো কঠোরভাবে নির্মোহ নয়, সেখানে তার রাজনৈতিক চেতনা এবং আদর্শের ছাপ রয়েছে কিন্তু তথ্য উপাত্ত দিয়ে সমৃদ্ধ করার কারণে এই সংকলনটি চমৎকার বই হিসাবে পরিচিতি পাবে, সন্দেহ নেই। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় আমরা যারা বাইরের পৃথিবীর দিকে তাকাতে পারি না, কিংবা যখন তাকাতে পারি তখন বুঝতে পারিনা তাদের জন্য এটি চমৎকার একটি সহায়ক বই হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীর আন্তর্জাতিক রাজনীতি একটা বড় অংশ ঘুরপাক খায় আন্তর্জাতিক ধর্মীয় জঙ্গী রাজনীতি নিয়ে, আফতাব চৌধুরীর ভবিষ্যতের লেখায় তার ছাপ দেখতে পাব প্রত্যাশা করছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী এবং তার সর্বশেষ সংকলন ‘প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘ’ বইটির জন্য শুভ কামনা রইল।’
প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘ বইটি পড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. কবীর চৌধুরী বলেন, ’সন্ত্রাসবাদের ভীতি ছড়িয়ে পুরো বিশ্বকে উদ্বাস্তে পরিণত করার হীন কৌশলের প্রেক্ষাপট যেভাবে এ গ্রন্থটিতে তুলে ধরা হয়েছে, তা প্রশংসার দাবী রাখে। বইটিতে রাজনৈতিক চেতনা ও আদর্শের যে চমৎকার ছাপ রয়েছে তা অনাগত প্রজন্মকে বিশ্ব রাজনীতির ব্যাপারে সম্যক ধারণা পোষণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।’
পুলিশের সাবেক আইজি ও এশিয়া ক্রাইম প্রিভেনশন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. এম এনামুল হক প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘ বইটি সম্পর্কে লিখেছেন, সাংবাদিক-কলামিস্ট হিসাবে আফতাব চৌধুরীর পরিচয় শুধু দেশেই নয় বিদেশেও। তার প্রকাশনার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে তিনি সমাজের বিভিন্নমুখী ইস্যুর উপর লিখে চলেছেন অনবরত। তার লেখার সাবলীলতায় স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। সহজ ভাষায় সুলিখিত রচনা সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে সমাদৃত। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আমাদের আরো উজ্জীবিত করবে। সাধুবাদ জানাই আফতাব চেীধুরীকে।’
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ’আফতাব চৌধুরী দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে ভাবেন-লিখেন নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে, সরকারকে কৃষির উন্নয়ন ও বনাঞ্চল সৃষ্টিতে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার লেখা সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বৃক্ষরোপনে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার স্বর্ণপদক। আফতাব চৌধুরী একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠিত লেখক। ইতিমধ্যে তার বেশ কটি বই প্রকাশিত হয়েছে। একজন মানুষ খ্যাতির শিখরে পৌছে যেতে পারেন অনায়াসে শুধু নিজের ইচ্ছা, একাগ্রতা, নিষ্ঠা, ভালবাসা আর ত্যাগের পথ ধরে এমন দৃষ্টান্ত সমাজে খুব নয়, স্বল্প। এ স্বল্পের মাঝে একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব খ্যাতিমান সাংবাদিক সুশীল সমাজের উজ্জ্বল প্রতিনিধি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্ব আফতাব চৌধুরী। আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর মহাসচিব জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক আফতাব চৌধুরীর লেখা বইগুলো পড়ে মন্তব্যে বলেন, ’অনন্তকালের কাছে মানুষের জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, যে-যে ধর্মের অনুসারীই হোক প্রত্যেকের উচিত নিজের অবস্থান থেকে পরিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস এবং সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য কাজ করা। একজন সফল ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক, পরিবেশবাদী, সমাজসেবক এবং বহুগুণের অধিকারী মানুষ আফতাব চৌধুরী। বিভিন্ন বিষয়ে তার চিন্তাধারা তিনি লেখার মাধ্যমে সহজ এবং সাবলীল ভাষায় তার বইগুলোতে তুলে ধরেছেন। তার লেখা পড়ে অনেকেই চিন্তার খোরাক পাবেন, আলোকিত ও উপকৃত হবেন।’
ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, ’আফতাব চৌধুরীর লেখা আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রসঙ্গে তথ্যবহুল প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘ বইটি হালনাগাদ আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আগ্রহীদের প্রত্যাশা পূরণে অনেকাংশে সহায়ক হবে বলে জোর প্রত্যাশা করি।’
আফতাব চৌধুরীর ১০ম গ্রন্থ ‘হাসতে নেই মানা’। এটি প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের মে মাসে। বইটির ভূমিকা লিখেছেন সাংবাদিক-কলামিস্ট ও কথা সাহিত্যিক ইউসুফ শরীফ। তিনি বলেন, ’গ্রন্থকার আফতাব চৌধুরী নানা পরিচয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক। সেই সঙ্গে একজন নিবেদিতপ্রাণ বৃক্ষপ্রেমিক, নিষ্ঠাবান পরিবেশবিদ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক কল্যাণমূলক বহু সংস্থার সঙ্গেও রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা। বৃক্ষরোপণে তার শ্রম ও সাফল্য- দুটোই নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। স্বীকৃতি স্বরূপ বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরষ্কারও পেয়েছেন। তীক্ষ্ণ সামাজিক দায়িত্ববোধের অধিকারী আফতাব চৌধুরীর এ যাবত ১০ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিক-সাহিত্যিক হিসেবে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তার যে কোন একটি কলাম বা প্রবন্ধ-নিবন্ধ পাঠ করলে পাঠকের কাছে এই পরিচয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। মানব জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে- চিন্তামূলক তার গ্রন্থসমূহ যেমন পাঠক নন্দিত, তেমনি সমালোচকদের দ্বারাও উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে।’
আফতাব চৌধুরীর ‘হাসতে নেই মানা’ বইটি পড়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও অবসর প্রাপ্ত মেজর জেনারেল আমিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘হাসতে নেই মানা বইটি চমৎকার, হাস্যরসে ভরা। হাসতে মানা হলেও বইটি পড়লে হাসতেই হয়। এ বইয়ের মাধ্যমে আফতাব চৌধুরী তার পরিচিত ও বন্ধুমহলে একজন হাস্যরস প্রিয় মানুষ হিসাবেই খ্যাতি পাবেন- সন্দেহ নেই।’
আফতাব চৌধুরীর ১১ তম গ্রন্থ ‘আলো’ একটি যৌথ সম্পাদনা। প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের মে মাসে। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন জালালাবাদ অন্ধ কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম চৌধুরী ও প্রচার সম্পাদক আফতাব চৌধুরী। এ গ্রন্থে অন্ধ কল্যান সমিতির দীর্ঘ ইতিহাস ও বহুবিধ কার্যক্রম বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
‘একের ভিতর একুশ’আফতাব চৌধুরীর ১২তম গ্রন্থ । এটি প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালের মার্চ মাসে। বইটির ভূমিকায় কবি ও সাংবাদিক রূহুল আমীন খান বলেন, ‘আফতাব চৌধুরী দেশের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট। সব্যসাচী লেখক আফতাব চৌধুরী সময়ের একজন সাহসী সন্তান। এ পর্যন্ত তার ১১ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, প্রকাশিতব্য ১২নং গ্রন্থ ‘একের ভিতর একুশ’এর পান্ডুলিপি আমার হাতে। মলাটবদ্ধ হওয়ার আগেই আমি একে একে সবগুলো লেখাই পাঠ করেছি। লেখাগুলো বিশ্লেষণধর্মী, দিকনির্দেশনা মূলক, সময়োপযোগী এবং মূল্যের দিক বিবেচনা করলে অমূল্য। পাঠককূল বইটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন, উপকৃত হবেন, আন্দোলিত হবেন, নিজের জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। বইটি সকল মহলে সকল সময়ের জন্যই বর্তমান, এটাও নির্দ্বিধায় বলা যায়। হাস্যরস প্রিয় আফতাব চৌধুরীর ‘একের ভিতর একুশ’ বইটি পাঠক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে আসবে এটা আমার একান্ত বিশ্বাস। সর্বোপরি গ্রন্থটির প্রচার, প্রসার এবং লেখকের সার্বিক সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ূ ও সুন্দর জীবন কামনা করছি।’
‘প্রকৃতি ও জীবন’ আফতাব চৌধুরীর ১৩তম গ্রন্থ। বইটি প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে কৃষি রেডিও’র জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আফতাব চৌধুরীকে দীর্ঘদিন থেকে চিনি, জানি। তিনি প্রকৃতির ঘনিষ্ঠ সহচর। শুরু থেকেই দেখে আসছি তিনি প্রকৃতির সাথে মিশে আছেন ওতোপ্রোতভাবে। প্রকৃতিকে ধারণ ও লালন করে এগিয়ে যাচ্ছেন সম্মুখ পানে। জীবন ঘনিষ্ঠ বলে জীবনকে দেখেন প্রকৃতির মত করে নিরবে নিথরে। হয়তো সে কারণে এ বইটির নাম দিয়েছেন প্রকৃতি ও জীবন। প্রকৃতি ও জীবন বইটি তার অন্যান্য বইয়ের চেয়ে ব্যতিক্রমী। এখানে নতুন কিছু ভাবধারা সংযোজিত হয়েছে প্রাসঙ্গিক ভাবেই যা এ বইটিকে আলাদা করেছে অন্যান্য বই থেকে। বইটিতে ৭৫টি শিরোনাম, উপশিরোনামে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন আবশ্যকীয় বিষয়াদিকে মাথায় রেখে। ফল শাক-সবজি উৎপাদন কৌশল যেমন এসেছে বিস্তারিত ভাবে তেমনি এসবের যাবতীয় খাদ্য ও ওষুধি গুণাগুণ সম্পর্কেও বর্ননা করেছেন আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা আর প্রয়োজনের ভিত্তিতে।’
বইটি পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ’প্রকৃতি ও জীবন বইটি চমৎকার। মলাট, লেখা এবং কাগজ সবই চমৎকার। অত্যন্ত উপকারী এ বইটি আমাকে উপহার দিয়েছেন সিলেটের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী। তার এ দানের জন্য কৃতজ্ঞ। বইটি আদ্যপান্থ আমি পাঠ করেছি, স্বল্প সময়েই। জাতীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার লেখা আমার চোখে পড়লেই আমি পড়ি। লেখাগুলো অত্যন্ত ভারী এবং দিক নির্দেশনা মূলক। দেশ ও জাতি উপকৃত হয় তার লেখা পড়ে। প্রকৃতি ও জীবন বইটি পড়ে মনে হলো তিনি কৃষিবিদ না হয়েও কৃষি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। আরো দশ জন লেখকের মতই একজন। কিন্তু এত প্রতিভা তার ভিতর লুকায়িত তা আমরা অনেকেই হয়ত জানিনা, আর জানিনা বলেই ঐ ভাবে তাকে মূল্যায়নও করা হচ্ছে না। অবশ্য তিনি ইতিমধ্যেই জাতীয় ভাবে দুটো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো দুটো পুরস্কার পেয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। তাকে অভিনন্দন। আমি তার শারীরিক সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং অভিনব ও চিরায়ত সৃষ্টির প্রত্যাশায় শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’
আফতাব চৌধুরীর ১৪তম গ্রন্থ ‘হাসি যখন ভালবাসি’। হাস্যরসে ভরা বইটির ভুমিকা লিখতে গিয়ে কবি ও সাংবাদিক আবদুল মুকিত চৌধুরী বলেন, ‘বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক, পরিবেশবাদী ও শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক আফতাব চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম বোদ্ধা সমালোচক মহলে নন্দিত, প্রশংসা-ধন্য। সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মানবিক মূল্যবোধের উত্তরণের স্বপ্ন ও দিক নির্দেশনা তার লেখালেখির প্রতিপাদ্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রাসন কবলিত, শৃঙ্খলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি-স্বপ্নের জাগরণী বার্তায় তিনি সোচ্চার। তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রত্যাশার দিগন্তে কালো মেঘ এচেতনারই স্মারক। তার অন্যান্য গ্রন্থেও মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিচরণ। সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষা-সমাজকল্যাণ, বিশেষত প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার স্বরূপ জাতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার সহ বহু পদক পুরষ্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তার সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থ প্রকৃতি ও জীবন-এ রয়েছে মানবদেহে প্রাকৃতিক উৎসজাত নানা ফলমুলের স্বাস্থ্য সহায়ক কল্যাণী ভূমিকার কথা। প্রকৃতির সাথে তার একাত্মতার সর্বশেষ উদাহরণ এটি। ভ্রমণভিত্তিক তার স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন অন্তর্দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।’
আফতাব চৌধুরীর ১৫ তম গ্রন্থ ‘চেতনায় আলো অনির্বাণ’প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে। বইটির ভুমিকায় বিশিষ্ট লেখক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাওলানা শাহ মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! বাংলা ভাষায় ও ইসলামী সাহিত্য রচনায় জোয়ার এসেছে। বর্তমানে বহু গ্রন্থ ইসলামের নানা বিষয় নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ হলো চেতনায় আলো অনির্বাণ গ্রন্থটি। এর রচয়িতা বহু গ্রন্থ প্রণেতা ফ্রীল্যান্স সাংবাদিক সদালাপী, সজ্জন, সুহৃদ আফতাব চৌধুরী। যিনি স্বনামেই পরিচিত। তার লেখালেখি বহু বিষয় নিয়ে। ইসলামের প্রতি তার অনুরাগ অনাবিল। তিনি একজন প্রাকটিসিং মুসলিম। এ বিষয়ে লেখাপড়া করা এবং জানার অনুসন্ধিৎসা প্রচুর। এরই প্রতিফলন এ গ্রন্থ। তিনি গ্রন্থের পান্ডুলিপি আমাকে দিয়ে বললেন দেখে দিতে ও ভুমিকা লিখতে। এতে আমি প্রথমে বিব্রতবোধ করি। কারণ জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত ও সমাদৃত একজন গুণী লেখকের লেখা সম্পাদনার কাজ সহজতর নয়। এরপরও আমার প্রতি তার আস্থা এ কাজটি করতে উৎসাহিত করেছে। সমকালীন সামাজিক রকমারী সমস্যাকে সামনে রেখে তিনি ইসলামী জীবনাদর্শের আলোকে এর সমাধান খুজেছেন মোট ৩০টি প্রবন্ধে। এগুলো দেখতে আমি অনেক সময় নিয়েছি। যতটা সম্ভব পরিমার্জিত করেছি।
সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী বৃক্ষপ্রেমিক হিসাবে অধিক পরিচিতি পেলেও তিনি একজন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। সমাজের ভাল মন্দ সামাজিক অবক্ষয় সমাজের গতি প্রকৃতি তাকে ভাবিত করে। সমাজের নানা অসঙ্গতি তার কাছে ধরা পড়ে। শিক্ষকদের তৃতীয় নয়ন থাকে বলে শুনেছি। তেমনি লেখক সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষকদেরও মনে করি একটি অন্তর্চক্ষু থাকে যা দিয়ে তারা সমাজ ও দেশকে পর্যবেক্ষণ করেন গভীরভাবে। এরই প্রতিফলন ঘটে তাদের লেখায়। আফতাব চৌধুরী এর ব্যতিক্রম নয়। এজন্য তিনি লিখে চলেছেন অবিরাম, বৈচিত্রপূর্ণ তার রচনাবলী। ১৯৯২ খ্রি. প্রথম গ্রন্থ ইদানিং প্রকাশিত হয় এবং ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে চৌদ্দতম গ্রন্থ হাসি যখন ভালবাসি প্রকাশিত হয়। ইতিমধ্যে আরো কিছু পান্ডুলিপি প্রস্তুত হয়েছে। এবারে প্রকাশ হলো চেতনায় আলো অনির্বাণ । বিত্তের সাথে চিত্ত মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আফতাব চৌধুরীর এক অনন্য ভুবন। যে ভুবনে জীবনের এক বড় অংশ তিনি ব্যয় করেছেন জ্ঞান চর্চায়। আলোকিত জীবনের সন্ধানে নিজেও হাটছেন নিরন্তর। আর জাতিকে তার সহযাত্রী হবার আহবান জানাচ্ছেন অবিরত। সময়ের সাহসী এ সৈনিককে আল্লাহ কবুল করুন, তার কর্মপ্রয়াস ও হায়াতের মধ্যে বরকত দান করুন।’
আফতাব চৌধুরীর ১৬ তম গ্রন্থ ‘অবদানে অমলিন’ প্রকাশিত হয় ২০১৬ সলের ফেব্রুয়ারী মাসে । বইটির ভুমিকা লিখতে গিয়ে হাইকোর্টের সিনিয়র এডভোকেট কবি ও কলামিস্ট মুজিবুর রহমান মুজিব লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাহিত্যাকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আফতাব চৌধুরী। আধুনিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের তিনি সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যার মননশীল লেখা প্রকাশিত হয় প্রতিদিনই। শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকায়। বক্ষমান গ্রন্থ শুধুমাত্র প্রবন্ধ সংকলনই নয়, এখানে ইউরোপ-এশিয়া তথা বিশ্ব সাহিত্য-সমাজ ও রাজনীতির বিশ্ববিখ্যাত ও সুনামখ্যাত জ্ঞানী-গুণী, বিদ্বান ও বিজ্ঞজনের চিন্তা চেতনা, ধ্যান-ধারণা, বর্ণিল-বর্ণাঢ্য, কর্ম ও জীবন দর্শনের উপর সম্যক আলোচনা ও আলোকপাত করেছেন। গুণীজনদের জীবন ইতিহাস রচনা কঠিন ও জটিল কাজ হলেও শক্তিমান সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী মুন্সিয়ানার সাথে সহজ-সরল প্রাঞ্জল ভাষায় সব রচনায়ই তার নামের বদনাম করেনি । ষাটোর্ধ প্রাণোচ্ছল তরুণ-মাঝারি উচ্চতার, ছুন্নতি ত্বরিকার মুখে হামেশা একচিলতে মুচকি-মিষ্টি হাসিসমেত ব্যক্তি আফতাব চৌধুরী একজন সহজ সরল সাদা মনের মানুষ। বন্ধুবর আফতাব চৌধুরীর প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্য, মেধা ও মনন, শিষ্টাচার-সৌজন্যবোধ ও বিনয়চরণ অনুকরণীয়। ঈর্ষনীয়ও।’
আফতাব চৌধুরীর ১৭তম গ্রন্থ ‘কালের সাক্ষী’প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। বইটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক প্রাক্তন মন্ত্রী ও জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রকাশক জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আফতাব চৌধুরীর পরিচয় বহুবিধ, কাজের পরিধিও বিস্তৃত। তার সাংবাদিকতায় হতেখড়ি ৭০ দশক থেকে। তিনি বিরতিহীন ভাবে দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বহুবিধ বিষয়ে লিখে চলেছেন। ক্লান্তিহীন, সদাহাস্য, সাদাসিধে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত, অবিশ্রামী আত্মপ্রতয়ী একজন কর্মবীর। সিলেট নগরীর উপশহরস্থ নিবাসে আফতাব চৌধুরীর সুরম্য বাড়িটি নানা কিছু নিয়ে সমৃদ্ধ তবে এর মধ্যে বই ব্যাপকভাবে রয়েছে সংগৃহীত। বলা যায়, বইয়ের সংখ্যাচিত্র তার অনেক স্ফীত। তার নিজের রচিত গ্রন্থ সংখ্যাও কুড়ি কোঠা ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রায়। অনুসন্ধানী দায়বদ্ধ লেখক আফতাব চৌধুরীর বয়স হয়েছে কিন্তু এর ভারে তিনি নুইয়ে পড়েননি বরং তার বিস্তর কর্মক্ষেত্রে তিনি রয়েছেন ব্যাপকভাবে সক্রিয়। সব কিছুর উপরে সাংবাদিক ও লেখক হিসাবেই তার স্থানটি মৌলিক ও স্বতন্ত্র। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপন ও এর পরিচর্যা তার জীবনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে লেখালেখির পাশাপাশি। লেখালেখির ক্ষেত্রে অসীম বিশ্বাসে দৃঢ় আফতাব চৌধুরী। তার ৫০টি লেখা নিয়ে প্রকাশিত কালের সাক্ষী ১৭তম বইটি পাঠক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাবে এবং জাতির কল্যাণে কাজে আসবে এটা প্রত্যাশা করি। গ্রন্থটির প্রচার, প্রসার, লেখকের দীর্ঘায়ূ ও সু-স্বাস্থ্য কামনার পাশাপাশি এও প্রত্যাশা করি, তার কলম চলুক নিরন্তর।’
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব কাজী রিয়াজুল হক আফতাব চৌধুরীর কালের সাক্ষী বইটি পড়ে বলেন, ‘চমৎকার একটা বই আমাকে উপহার দেয়ায় বন্ধু আফতাব চৌধুরীকে অনেক ধন্যবাদ। বইটি আমি পড়েছি। বাবা, ক্ষমা করো তোমার অবুজ সন্তানকে- লেখাটি পড়ে আমার মনে হলো আফতাব চৌধুরী তার বাবার খুব ভক্ত সন্তান। তিনি তার বাবার জন্য কিছু করতে পারেননি- এটা তিনি শুধু অনুভবই করেননি- মনে রেখেছেন ভাল করেই। আর এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে তার বাবার জন্য মাগফেরাত কামনা করেছেন। এ রকম ছেলে সন্তান রেখে যাওয়াটাই একজন সার্থক ও সফল বাবার পরিচয়। আফতাব চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে অবিরত লিখে চলেছেন দেশীয়, আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকায়, মলাটবদ্ধ করেছেন প্রচুর লিখনি। তার বহুমুখী প্রতিভা পাঠক মহল দীর্ঘদিন মনে রাখবেন। আমি তার সুস্বাস্থ্য,দীর্ঘায়ু কামনা করছি। প্রত্যাশা করছি তিনি যেন জাতীয়ভাবে স্বীকৃত হোন বার বার।’
আফতাব চৌধুরীর লেখা ১৮ তম বই ‘স্বাস্থ্য সমাচার’প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। বইটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী সাংবাদিক ও সব্যসাচী লেখক আফতাব চৌধুরী বর্তমান সময়ে দেশের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে এক আলোকিত নাম। তিনি একাধারে সাংবাদিক, কলামিস্ট, সমাজসেবী ও বৃক্ষপ্রেমী। আফতাব চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা ও ব্যবাসার পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সেবাদান এবং সমাজকল্যাণ মূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। নিয়মিত লিখে চলেছেন দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীতে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও সমাজ সচেতনতা মূলক কলাম লিখে যাচ্ছেন অবিরাম গতিতে। তার লেখা গ্রন্থের সংখ্যা কুড়ির কোঠা অতিক্রম করছে। আলোচিত, প্রশংসিত হয়েছে পাঠক মহলে ব্যাপক ভাবে। সৃজনশীল ও কর্মমুখী কাজের জন্য এ পর্যন্ত তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অনেকগুলো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং সম্মাননা লাভ করেছেন। আফতাব চৌধুরী প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য আজীবন কাজ করে যাচ্ছেন। তার স্বাস্থ্য সমাচার বইটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত করা যায় অনায়াসে। বইট শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
আফতাব চৌধুরীর ১৯-তম গ্রন্থ ‘ভাবনা যত মনে’। প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। বইয়ের আলোচনায় প্রফেসর মুহাম্মদ হায়াতুল ইসলাম আকুঞ্জি বলেন, ‘প্রবীন সাংবাদিক ও লেখক আফতাব চৌধুরী অত্যন্ত কঠিন বিষয়কে সহজভাবে ১৫টি প্রবন্ধের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন পাঠকের কাছে । সমাজ, রাষ্ট, ধর্ম ও বিশ্বলোকের বিবিধ বিষয় মমত্ব নিয়ে আপন হৃদয়ে যেভাবে ধারণ করেন তার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে আলোচ্য গ্রন্থে। বলা যায়, তার মহৎ উদ্দেশ্যেও সফল বাস্তবায়ন ভাবনা যত মনে গ্রন্থটি। বইটির বহুল প্রচার কামনা করি একই সঙ্গে লেখকের সুস্থ ও সুখময় দীর্ঘায়ু কামনা করি।’
আফতাব চৌধুরীর ২০-তম গ্রন্থ ‘দেশ দেশান্তর’প্রকাশিত হয়েছে মে ২০১৯ সালে। বইটি সম্পর্কে প্রফেসর মো.আজিজুর রহমান লস্কর বলেন, ‘এদেশে যারা নিয়মিত পত্রিকা বা বই পুস্তক পড়ে থাকেন বা লোখালেখিতে সম্পৃক্ত তাদের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী। কারণ পত্রিকায় তার নাম নিয়মিত ছাপা হয়। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সর্বদা লিখে থাকেন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী ও ম্যাগাজিনে। ইতিমধ্যে তার লেখা কুঁড়িটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এ বইগুলো পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে প্রচুর। সাংবাদিক-কলামিস্ট ও লেখক আফতাব চৌধুরীর লেখনী থেকে কোন বিষয়ই বাদ যায় না। অতি সাধারণ ঔষধি উদ্ভিদ থেকে শুরু করে মহাকাশের ওজন স্তর, বিশ্বের সম-সাময়িক বিষয়-আশয় নিয়েও লিখে চলেছেন হর হামেশাই। স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষের গুরুত্ব নিয়ে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ লিখে যাচ্ছন, কাজও করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। কেবল প্রবন্ধ রচনা নয়, তিনি স্বহস্তে বিনা মূল্যে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বৃক্ষের চারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং ব্যক্তি পর্যায়েও বিতরণ করে থাকেন, অন্যদেরকেও বৃক্ষরোপণ করে তা পরিচর্যা ও রক্ষণা-বেক্ষণের পরামর্শও দিয়ে থাকেন সকল মহলে বৃক্ষপ্রেমী হিসাবে পরিচিত এ মানুষটি।’
আফতাব চৌধুরীর ২১-তম গ্রন্থ ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ’ প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে। স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষি প্রযুক্তিবিদ জাতীয় সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও বঙ্গবন্ধু গবেষনা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা কবি-প্রাবন্ধিক সিরাজুল করিম বলেন, ‘গ্রন্থকার আফতাব চৌধুরী তার সমৃদ্ধ প্রকৃতি ও পরিবেশ গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধ সমূহের মাধ্যমে সর্বস্তরে সর্বাবস্থায় গোটা মানবগোষ্ঠী ও প্রাণীকূল যাতে সুন্দর-সমৃদ্ধ সুখকর জীবনাচার নিয়ে বাঁচতে পারে তেমনি এক স্বপ্নের বাস্তবায়নের কথাই বলেছেন, যা দেশ ও জাতির স্বার্থেই আমাদের জানা আর অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।’
প্রকৃতি ও পরিবেশ বইটি পড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা ও জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আফতাব চৌধুরী দেশের একজন খ্যতনামা সাংবাদিক ও লেখক। দীর্ঘ দু’যুগেরও বেশি সময় খুব সম্ভব ১৯৯৫ সালে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা ও পরিচয়। মাধ্যম ছিলেন ড. আশরাফ সিদ্দিকী। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষে তার সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি তার লেখা ও প্রকাশিত বেশ ক’টি বই আমার নিকট পাঠিয়েছেন। আফতাব চৌধুরীর লেখা বইগুলো নানা দিক দিয়ে সমৃদ্ধ। এগুলো পড়লে যে কোন কারোরই তার লেখা আরো বেশি পড়ার উৎসাহ জাগার কথা, যেমন আমার জেগেছে। বিশেষ করে প্রকৃতি ও পরিবেশ বইটিতে রয়েছে নানা সমস্যা সমাধানে পরামর্শ এবং দিক নির্দেশনা। আমি তার দীর্ঘ জীবন, সুস্থাস্থ্য এবং লেখনীর মাধ্যমে দেশের মঙ্গলের কাজ করে যাওয়ার অনুরোধ করছি।’
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবি আজাদী সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ বলেছেন, ‘আফতাব চৌধুরীর বইয়ে তার লেখাগুলো সমাজ পুনঃনির্মাণের ওয়ার্কশপ হিসাবে চর্চার বিষয় হওয়ার উপযুক্ত।আফতাব চৌধুরী নব প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস। তার লেখাগুলো একজন সমাজকর্মীর অন্তর প্রেরণার ফসল। যখন যা লেখকের দৃষ্টিতে এসেছে সেটি-ই তার মনের আয়নায় বড় হয়ে ধরা পড়েছে। একজন দক্ষ কথাশিল্পীর যাদু স্পর্শ হয়তো লেখাগুলোতে নেই কিন্তু তাতে রয়েছে লেখকের স্বতঃস্ফূর্ত মনের আনন্দ-আবেগ।’
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মুফলেহ আর ওসমানী আফতাব চৌধুরীর বই পড়ে বলেন, ‘নিজস্ব অভিজ্ঞতা, চিন্তা, দর্শন, অনুভূতি ও উপলব্ধি সকল মানুষই সহজাতভাবে প্রকাশ করতে চায়। অন্য সত্ত্বার সাথে বিনিময় ও দেয়া নেয়ার মধ্য দিয়ে অন্যকে নিবিড় করে জানতে চায়। স্বকীয় চেতনায় অন্যকে উদ্বুদ্ধ করতে চায়। নিজের সৃজনধর্মী প্রতিভা প্রকাশের মাঝে আত্মপ্রত্যয় ও আত্মচেতনার সন্ধান চায়। কেউ পারে। কেউ পারে না। আমার ক্ষুদ্র মতে আফতাব চৌধুরী অবশ্যই পেরেছেন।’
পুলিশের সাবেক আইজি, ঢাকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ই এ চৌধুরী আফতাব চৌধুরীর লেখা বই পড়ে লিখেছেন, ‘বই এবং প্রচ্ছদ, ভাষা ও বর্ণনা খুবই আকর্ষণীয়। সুলিখিত ও দৃষ্টিনন্দন।বইগুলো পাঠকের কাছে সমাদৃত হবে, সন্দেহ নেই।’
সংস্কৃতিমনা আফতাব চৌধুরী রেডিও বাংলাদেশের একজন নিয়মিত কথক। জাতীয় টিভিতেও তিনি মাঝে মধ্যে প্রোগ্রাম করে থাকেন। পুলিশ লাইনস ইনসার্ভিস ট্রেনিংয়ের প্রশিক্ষক আফতাব চৌধুরী ইমাম ট্রেনিং একাডেমী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে পাঠদান করে থাকেন।
আফতাব চৌধুরী বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য।বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ঢাকা ও সিলেট, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সমিতি, জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, সিলেট রাইফেলস ক্লাব, জালালাবাদ ইতিহাস ও গবেষণা পরিষদ, সিলেট মোবাইল পাঠাগার, বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ ঢাকা, নজরুল একাডেমী, জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি, কবি দিলওয়ার পরিষদ, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, লায়ন্স শিশু হাসপাতাল সিলেট, বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমী সুনামগঞ্জ, ট্যুরিষ্ট ক্লাব সিলেট প্রভৃতি সংস্থার জীবন সদস্য। তিনি জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সীমান্তিক আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, সরকারী পাইলট হাইস্কুল, পুলিশ লাইনস হাই স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল, সীমান্তিক টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, জেলা ব্র্যাণ্ডিং বাস্তবায়ন কমিটি, জেলা বন ও পরিবেশ কমিটি, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারী পরিদর্শক ও জেলা আইন শৃংখলা কমিটি সহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত। এসবের কোনটিতে ছিলেন আর কোনটিতে এখনও সক্রিয় আছেন।
২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে আফতাব চৌধুরীকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক সিলেট সিটি কর্পোরেশনে দীর্ঘ সময় কর প্রদানকারী হিসাবে মনোনিত করে। এ উপলক্ষে ২০১৩ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর সিলেট মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে সেরা করদাতার সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আফতাব চৌধুরী লন্ডন ভিত্তিক বিএনএসএ, ভারতের আসাম ভিত্তিক হুসন এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন প্রদত্ত সম্মাননা স্মারক লাভ করেছেন। তিনি রাগীব রাবেয়া সাহিত্য পুরষ্কার, শেকড়ের সন্ধানে, পালক, সিলেট লেখক ফোরাম প্রদত্ত সম্মাননা পদক, রোটারী ক্লাব সহ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আফতাব চৌধুরী একজন সফল ব্যবসায়ী ও ভ্রমণ বিলাসী। ব্যবসা, সাংবাদিকতা ও সরকারী ভাবে বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, গ্রেট বৃটেন, দুবাই, আবুধাবী, চীন, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।
আফতাব চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে একজন সুখী মানুষ। স্ত্রী হামনা খানম চৌধুরী তার প্রেরণার উৎস। (২০১৯ সালের ২১শ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী ইন্তেকাল করেছেন)।তিন ছেলে সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে মাহবুব অষ্ট্রেলিয়ায় উচ্চ শিক্ষা শেষে উচ্চ পদে চাকুরীরত। মেজো ছেলে মারুফ আমেরিকায় আর তৃতীয় ছেলে মাসুদ এমবিএ ডিগ্রী নিয়ে দেশে একটি বেসরকারী ব্যাংকে অফিসার হিসাবে কর্মরত।


  • 181
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    181
    Shares

আরও পড়ুন

দেশনেত্রী’র মুক্তির দাবীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : বিএনপির...

সোবহানীঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আমকুনীর জানাজা আজ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেটের প্রবীন...

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

         বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ...