আপন ভাইকে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন!

,
প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি, ২০২১     আপডেট : ২ সপ্তাহ আগে
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

বুলবুল আহমদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥ জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন ভাই বোনকে বাচাঁতে এগিয়ে আসায় ভাইকে সাবল দিয়ে মেরে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। এতে ঐ ভিডিওতে দেখা যায়- তার আপন বড় ভাই গংরা মিলে একটি যুবককে মাটিতে ফেলে রশি দিয়ে বেধে মারপিট করছে। যুবকটির চিৎকারে গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। কিন্তু উপস্থিত লোকজনের মনে উত্তেজিত ভাব থাকলেও ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করেন নি! ভাইকে বাচাঁতে বোন কল দিল ৯৯৯ নাম্বারে। চলে আসে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। ভাইকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরন। স্থানীয়দের সূত্রে ও মামলার অভিযোগে প্রকাশ, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আজলপুর গ্রামে গত সোমবার সকালে বিরোধপূর্ণ রাস্তায় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আবু বকর, ছুরুক, আবু ছালিক ও ফিরুজ মিয়া গংরা রাস্তায় কাজ করতে শুরু করে। এর পূর্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন খবর শুনে দাঙ্গা হাঙ্গামার ভয়ে গত ৩১.১২.২০২০ ইংরেজী তারিখে নবীগঞ্জ থানায় রাজু’র বোন হেলেনা বেগম বাদী হয়ে একটি জিডি করেন। ডিজি’র খবর পেয়ে হেলেনা বেগমকে প্রাণে হত্যার নানান পরিকল্পনা করে তারা। পরে গত ১১ জানুয়ারী সোমবার সকালে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ রাস্তায় আবু বকর, ছুরুক, আবু ছালিক ও ফিরুজ মিয়া গংরা রাস্তায় কাজ করতে শুরু করে। এ সময় রাস্তার কাজে রাজু’র বোন হেলেনা বেগম আপত্তি করেন। কিন্তু তারা মানতে রাজি হয় নি। পরে পঞ্চায়ের দুহাই দিয়েও রক্তা হয়নি! আজলপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিদ মিয়ার মেয়ে হেলেনাকে সাবল দিয়ে মারতে আসতে দেখে ভাই রাজু মিয়া (২৪) এগিয়ে আসলে সাবলের বাড়িটি তার মাথায় পড়ে চটপট করতে থাকে। পরে পাষন্ডরা গরুর রশি দিয়ে রাজুকে বেধে মারপিট করে গুরুতর আহত করে তারই আপন ভাই আবু বকর, ছুরুক, আবু ছালিক ও ফিরুজ মিয়া গংরা। এসময় তার সুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন উপস্থিত হলেও তারা কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পান নি! যাই হোক রাখে আল্লাহ মারে কে? এ ঘটনা দেখে ও শুনে ৯৯৯- এ কল দিলে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নির্যাতিত রাজু মিয়াকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে হেলেনা বেগম জানান, আমরা আইনে প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আমাদের
রাস্তা ও জায়গা সম্পত্তি দখল করবে বলে শুনে আমি গত ৩১.১২.২০২০ইংরেজী
তারিখে নবীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করি। প্রতিপক্ষ জিডির খবর পেয়ে আমাকে
নানান ধরনের হুমকি দামকি দিয়ে বলে দেখি তর জিডিয়ে কি করে? আমরা রাস্তা ও জমি দখল করবো পারলে টেকাইছ। তাদের এমন হুমকি ধামকিতে আমার মনে নানান ধরনের চিন্তা ও আতংক বিরাজ করে। পরে গত সোমবার সকালে দেখা যায় বিরোধপূর্ণ রাস্তায় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আবু বকর, ছুরুক, আবু ছালিক ও ফিরুজ মিয়া সহ আরো ১০/১২জন রাস্তায় কাজ করতে শুরু করে। এসব দেখে আমি তাদেরকে আপত্তি করি এবং পঞ্চায়েতের দোহাই দেই। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে উল্টো সাবল দিয়ে আমাকে মারতে আসে তারা সবাই। এক পর্যায়ে আমার ভাই রাজু এগিয়ে আসলে আমার মাথায় না পড়ি অমার ভাই’র মাথায় বাড়ি পড়ে এবং সে মাঠিতে সু- জুরে চিৎকার দিতে থাকে। এরপরও পাষন্ডদের একটু মায়া হয়নি। বরং আমার ভাই পকেটে থাকা ৭৬ হাজার টাকা নিয়ে গরুর রশি দিয়ে বেধে লাঠি সুটা দিয়ে বেধরক মারপিট করে আর বলে ক দেখি কে আয়? প্রয়োজনে তদের খুন করে আমরা রাস্তা করবোই। পারলে টেশা দেখি। তাদের এসব অমানবিক কান্ড দেখে ও শুনে অসহ্য হয়ে কৌশলে আমি তাদের কাছ থেকে দুরে গিয়ে জাতীয় ইমার্জেন্সি ৯৯৯ নাম্বার এ ফোন দিই। পরে কিচ্ছুক্ষনের মধ্যেই নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ আমার নির্যাতিত ভাই রাজু মিয়াকে উদ্ধার করে তারা। পরে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করি। ২দিন ২রাত চিকিৎসা নিয়ে করুনার ভয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে আমার ভাই রাজু মিয়া বাদী হয়ে ৪জনের নাম উল্লেখ করে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
তিনি আরো বলেন, ৯৯৯ নাম্বারে কল দিয়ে আমি তার ভাই ও তাদের পরিবারের জীবন
রক্ষা পাই। আমি দেশের আইন শৃখলাবাহির সহযোগীতা কামনা করছি। প্রতিপক্ষের
ভয়ে আমরা কিছুতেই শান্তিতে নেই! তাদের ভয়ে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
উল্লেখ্য যে, আজলপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী ছাদিক মিয়া ও তার চাচাতো ভাই
কয়েছ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে
আসছিল। উক্ত বিরোধীয় জায়গায় এক পক্ষ কয়েছ মিয়া জোর পূর্বক রাস্তা পাকা
করণের কাজ করায় রাজু ও তার বোন নিষেধ করে। এ নিয়ে কয়েছ মিয়ার লোকেরা রাজু
মিয়াকে গরুর রশি দিয়ে বেধে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্চ (ওসি) আজিজুর রহমান জানান,
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজু মিয়াকে উদ্ধার করেছে।
এব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগও আমরা পেয়েছি। এমন নেক্কার জনক ঘটনার সাথে
যে বা যাহার জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।


  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

আরও পড়ুন

কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ড. মোমেন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  জাতিসংঘে বাংলাদেশ...

লটারিতে কর্মস্থল নির্ধারণ কক্সবাজার থেকে বদলি হওয়া ৪৬৫ পুলিশের

3        3Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক কক্সবাজার জেলা...