আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন, ডাক আসা মাত্র ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে- তারেক রহমান

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওএনবি (লন্ডন) ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহনের জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন,আপনারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিন। ডাক দেয়ার সময় চলে আসছে। ডাকের জন্য অপেক্ষা করুন।ডাক আসামাত্র বাংলাদেশের সাধারন মানুষকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।বিএনপির ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই আহবান জানান।

সোমবার পূর্ব লন্ডনের দ্যা রয়্যাল রিজেন্সি অডিটরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।ভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালিক। সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমেদের পরিচালনায় সভায় আরো উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, ব্যারিষ্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, হুমায়ুন কবির, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস এবং ঢাকা ও কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ মালিক

তারেক রহমান বলেন, সময়মত ডাক আসবে, ইনশাআল্লাহ। সেই ডাক আসা পর্যন্ত স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি গ্রহন করুন।কোন কিছুতে বিভ্রান্ত হবেন না। মিথ্যা বিভ্রান্তিকর ছড়িয়ে, অপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য আন্দোলনের মাধ্যমে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এখন মুলমন্ত্র হবে-‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ ,যদি তুমি এগিয়ে যাও তবে তুমি বাংলাদেশ’।

সরকার ভীতি, প্ররোচণা কিংবা কোনো প্রকারের ফাঁদে পা না দিতে নেতা-কর্মীসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মনে রাখবেন বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য ভাঙ্গার জন্য এই অবৈধ ও ব্যাংক ডাকাত সরকার সকল রকমের চেষ্টা করবে। তারা খুন-গুম, নিখোঁজ করার মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে। তারা অর্থ ঘুষ দিয়ে চেষ্টা করবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তারা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার জোর করে খবর চাপানোর মাধ্যমে বিভ্রান্তির চেষ্টা করবে। কাজেই সব কিছু সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, কোন কিছুতেই বিভ্রান্ত হলে চলবে না।

তিনি বলেন,বর্তমান সরকারকে অবৈধ, অগণতান্ত্রিক এবং লুটেরা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে নতুবা সন্ত্রাসী সরকার যেভাবে ব্যাংক ডাকাতি করছে, পাথর কয়লা লুট করছে একইভাবে এবার দেশের মাটি পর্যন্ত তুলে নিয়ে বিক্রি করে দিবে।

জনগণের দেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, অনেক হয়েছে, আজ এখানেই রুখে দিতে হবে।জনগণের দেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব।এজন্য দরকার ঐক্য। সে ঐক্য হলো সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্য। এই ঐক্য শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, এই ঐক্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। আজ দেশে সম্মানিত মানুষকে অসম্মানিত করা হচ্ছে, অমর্যাদা করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার এতো বছর পর সরকারি চাকুরীতে ৫৬ পার্সেন্ট কোটার দরকার নেই। আমি আগেই বলেছি, কোটা সংস্কার প্রয়োজন। এই অবৈধ সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষর্থীদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীকে মেরে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে বুড়িগঙ্গায়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি। লক্ষ্য একটি হলো আগামীতে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার, যেই সরকার বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা সঠিকভাবে নির্বাচিত হবে, জণগণের মাধ্যমে গঠিত হবে এবং যে সরকার হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত, সে সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। এজন্য স্ব স্ব অবস্থান থেকে ডাক আসা পর্যন্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করুণ।

বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া শিশু-কিশোরদের সাম্প্রতিক সড়ক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা শুধু নিরাপদ সড়কই নয় অবশ্যই নিরাপদ সড়ক থাকতে হবে। তাই আমরা সবাই চাই নিরাপদ বাংলাদেশ।

তিনি বলেন বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যেসব বিভিন্ন নেতাকর্মীরা রয়েছেন তাদের বলবো, বাংলাদেশের প্রতিটি পেশার মানুষদের বলবো, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গৃহবধু, তরুণী-তরুণ, ছাত্র-ছাত্রী সবাইকে নিজের অধিকার আদায়ের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্লোগানটি উচ্চারণ করে বলেন ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি এগিয়ে যাও তবে তুমি বাংলাদেশ।

মাসের পর মাস কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করেন তারা আজ এমন অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছেন যখন আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। যাকে দেখে কোটি কোটি মানুষ এসে বিএনপিতে ভীড়েছে, তিনি আজ কাছে নেই, কারাগারে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে মন শক্ত রাখতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকার নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, লাখো মানুষের এই সমাবেশ একটি বার্তা দিয়ে গেছে বিএনপির কাছে। তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে গেছে।

গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে দেশের অন্যান্য সংগঠনগুলোকে এক কাতারে আসার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির পাশপাশি আরো কিছু দল জাতীয় ঐক্যর ডাক দিয়েছেন। যারা এ ঐক্যের ডাক দিয়েছেন দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অনেক রকমের অবদান রয়েছে। দেশ আজ অপশাসনের কবলে পড়েছে। বিএনপির লাখো লাখো নেতা-কর্মী এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্র রক্ষার যে আন্দোলন তিনি শুরু করেছেন তাকে বেগবান করতে। তাদের সহযোগিতা করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহবান জানচ্ছি।জাতির জন্য এক বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জন্য প্রয়োজন বৃহত্তর এক ঐক্যের। এটা শুধু সরকার পরবির্তনের জন্য নয়। এই পরিবর্তন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাম্য, ন্যায় এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।

দেশে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের আদালত নয় বরং আওয়ামী লীগের আদালতে পরিণত হয়েছে। কোর্টের রায়ের আগেই দলের নেতাকর্মীরা রায় বলে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতিকে ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে এই সরকার। কিছু অপ্রিয় কথা বলার কারণেই তাকে হনস্থা করা হয়েছে। তিনি এখন আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন।

সরকার টাকা, পাথর, সোনা ডাকাতি করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশ এভাবে চলতে পারে না।আমি একটি বৃহৎ ঐক্যের আহবান জানাবো। বাংলাদেশের প্রতিটি পেশার মানুষ, ছাত্র, গৃহবৃধু, চিকিৎসক, শ্রমিকসহ সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন এ সরকারের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা গায়েব হয়েছে, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে এটা হয়েছে।এ টাকা জনগণের টাকা। দুঃখের বিষয় সেই টাকা দিয়ে বিদেশের মাটিতে জুয়া খেলা হচ্ছে।সরকারের কাছের লোক বেসিক ব্যাংকের টাকা লুট করেছে। বিএনপির সময় কি এরকম খবর আপানারা পত্রিকায় কেউ দেখেছেন? শধু টাকা নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে রাখা সোনা তামা হয়ে গেছে। এ সরকার দেশটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, আগে ব্যাংক ডাকাতি করতো এনালগ পদ্বতিতে, ব্যাংকে ঢুকে বন্ধুক দিয়ে ব্যাংক লুট করতো আর এখন ব্যাংক ডাকাতি করছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। তিনি বলেন, এই সরকারকে আর থাকতে দিলে তারা ক’দিন পর মাটি খুলে বিক্রি করে দিবে।

সীমান্তের ফেলানি হত্যাকান্ডের মতো দৃশ্য বিএনপির শাসনামলে দেখা যায়নি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ অবৈধ সরকারের সময় ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম এবং দিনারের মতো নেতাদের গুম করা হয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা সালাহউদ্দিনকে ভারতের সীমান্তে ফেলা আসা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এ পর্যায়ের কোনো নেতাকে কি বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গুম করেছে? না করেনি। এই হচ্ছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য।

জনগণ যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে সে জন্য খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে সরকার মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আজকে আমাদের প্রিয় নেত্রী, কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেত্রীকে জোর করে জেলে আটকে রেখেছে সরকার। তিনি জনগণের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোটের অধিকার, আর জবাবদিহিতার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। মানুষ যাতে খালেদা জিয়ার পেছেন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, সে জন্য তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এ কথা বলার সময় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী- “মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই”, “জেলের তালা ভাঙেবাে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো”, স্লোগানে সভাস্থল প্রকম্পিত করে তোলে।

সরকারের দমন-নিপীড়নের কড়া সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, এ অবৈধ সরকার শুধুু খালেদা জিয়াকে বন্দি করে ক্ষান্ত হয়নি, বিএনপির হাজারাে নেতা-কর্মী আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আজ আমাদের মাঝে শহীদ জিয়া নেই কিন্তু তাঁর আদর্শের লক্ষ-লক্ষ সৈনিক আছে। খালেদা জিয়া বন্দি থাকলেও তাঁর নির্দেশ না আমাদের সঙ্গে আছে। তাঁর লক্ষ-কোটি সৈনিক দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে।

বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ড. শহীদুল আলমের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে নয় বরং যে মানুষটিই অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে হয় তাকে গুম-খুন না হয় জেলে ঢোকানো হয়েছে। কদিন আগে ড. শহীদুল আলমকে কিভাবে আটক করেছে সরকার তা সবাই দেখেছেন।

সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হবার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজ যেন সাংবাদিকদের হাত বাঁধা। এত নির্যাতন সহ্য করে বিএনপি হাজারো নেতা-কর্মী যদি মানুষের জন্য লড়তে পারে, আপনারা কেন পারবেন না? আজ যদি আপনারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে না দাঁড়ান তাহলে কাল তা পারবেন না। এসরকার আপনাদের কলমও কেড়ে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, কিভাবে একটা দেশকে ধ্বংস করতে তা আওয়ামী লীগ জানে। আর তা রংহেডেড হাসিনার কাছ থেকে শিখতে হবে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, দেশ স্বাধীন হবার পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচন ছিলো বিতর্কিত। তারেক রহমান বলেন, এবারও তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে তড়িঘড়ি ইভিএম চালু করতে চায়।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ধোঁকাবাজির রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। জনগণ খালেদা জিয়াকে বিশ্বাস করে, খালেদা জিয়া জনগণকে বিশ্বাস করে। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা বার বার খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে দেশের দায়িত্ব দিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, অনেকে বিভ্রান্তি ছড়ায় বিএনপি এলে এটা হবে ওটা হবে। বিএনপি সব সময় মানুষের কল্যানে কাজ করে। মানুষকে নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রাখে। বিএনপি কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নেয়না। তিনি ছাত্র-যুব সমাজকে উদ্দেশে বলেন,যারা ভোটারে হয়েছে তারা গত দশ বছর কি ভোটে দিতে পেরেছে? অথচ ভোট মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারেক রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার কারণ এবং জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করার কথা ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের। তাদের ব্যর্থতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিও ছিলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশ আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। শহীদ জিয়া খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন করেছিলেন, আজকের এই গার্মেন্টস শিল্প জিয়াউর রহমান সরকারের আমলেই শুরু হয়েছিল, জন শক্তি রপ্তানি শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন জিয়ার শাসনামলেই শুরু। এইভাবে দেশ যখন এগিয়ে যেতে থাকলো তখনি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হলো। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার দুই সপ্তাহের মধ্যে জিয়াউর রহমান কেন শেখ হাসিনা নিহত হলেন এর বিচার অদূর ভবিষ্যতে জনগণ করবে।

তিনি বলেন, নিজেদের দলীয় কোন্দলে ৭৫ সালে শেখ মুজিব নিহত হয়েছিল। যারা শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরী করেছিলেন, এখন শেখ হাসিনার চারপাশে তারা। তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের দল তাহলে মুক্তিযুদ্ধের এই দলটিকে কেন শেখ মুজিবুর রহমান নিষিদ্ধ করলেন?


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গিলাফ চড়ালেন শফিক চৌধুরী

         মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ...

ফকীর আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুতে সিলেট জেলা যুবলীগের শোক

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক বাংলাদেশ আওয়ামী...

কামরানের মাগফেরাত কামনায় মহানরগর শ্রমিকলীগের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

         বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির...