আদর্শ স্ত্রীর গুণাবলি সম্পর্কে আল-কোরআন ও হাদিস

প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করার পর নিঃসঙ্গতা দূর করা এবং মানব সৃষ্টির ক্রমধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে হজরত হাওয়া (আ.) কে সৃষ্টি করেছিলেন। কেননা, নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণী-

‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।’ (সূরা বাকারা : ১৮৭)।

নারী-পুরুষকে আল্লাহ তায়ালা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার মাধ্যমে একাকার করে দিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সীমাহীন মহব্বত সৃষ্টি করে প্রশান্তির নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, যা আল্লাহ পাকের বাণীর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।’ (সূরা রুম : ২১)।

আর ওইসব স্ত্রীদের কাছেই প্রশান্তি যারা সতীসাধ্বী এবং আদর্শবান। হাদিসের ভাষায়, ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন,

সমগ্র পৃথিবী মানুষের ভোগ্যবস্তু, এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো পূণ্যবতী স্ত্রী।’ (নাসায়ি : ৩২৩২)।

একজন আদর্শ স্ত্রীকে যেসব গুণাবলি সুশোভিত করে, তন্মধ্যে রয়েছে- তিনি প্রকাশ্য বা গোপনে সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ তায়ালা এবং তদীয় রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এর অনুসরণ ও অনুকরণ করবেন। তাদের বিরুদ্ধাচরণ কখনোই করবেন না। তিনি নিজেকে স্বামীর অবর্তমানে সর্বাবস্থায় সংরক্ষণ ও সংবরণ করবেন। হাদিসের ভাষ্যমতে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন,

আমি কি তোমাকে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হলো, নেককার স্ত্রী। সে তার দিকে তাকালে সে তাকে আনন্দ দেয় এবং তাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা মেনে নেয় এবং সে যখন তার থেকে অনুপস্থিত থাকে, তখন সে তার সতীত্ব ও তার সম্পদের হেফাজত করে।’ (আবু দাউদ : ১৬৬৪)।

স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হবেন না। তার আদেশ-নির্দেশ মেনে চলবেন। তার প্রতি সর্বদা সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করবেন। কেননা, স্বামী তার কাছে সর্বদা সম্মানের পাত্র। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন,

আমি যদি কাউকে অন্য লোকের প্রতি সেজদা করার নির্দেশ দিতাম তাহলে অবশ্যই স্ত্রীকে তার স্বামীর প্রতি সেজদা করার নির্দেশ দিতাম।’ (তিরমিজি : ১১৫৯; ইবনে মাজাহ : ১৮৫৩)।

স্বামী স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় মুচকি হাসিতে দেখতে পছন্দ করেন। সে জন্য স্ত্রীর উচিত হাস্যোজ্জ্বল থাকা। গোমরা মুখে না থেকে হাসিমুখে স্বামীকে বরণ করার মাধ্যমে স্ত্রী তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
স্ত্রী উত্তম চরিত্রের অধিকারিণী হবেন। ঝগড়া বা তর্কবিতর্কের সময় স্বামী রাগ করতে পারেন- এমন কথা বলা উচিত নয়। স্বামী দরিদ্র হলেও তার দরিদ্রতার ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং সম্পদশালী হলে তার সম্পদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা স্ত্রীর কর্তব্য। এর অর্থ এই নয় যে, শুধু স্ত্রীকেই এই দয়িত্ব পালন করতে হবে। স্বামীকেও এমনভাবে আচরণ করতে হবে, যাতে উভয়ের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক বহাল থাকে।
সত্য কথা বলার মাধ্যমে নিজেকে সুশোভিত করা এবং সর্বপর্যায়ে মিথ্যা বলা বা মিথ্যার ওপর আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকা আদর্শ রমণীর সর্বোত্তম গুণ। অন্যকে তিরস্কার এবং ঠাট্টা-বিদ্রƒপ থেকে সর্বদা বিরত থাকা উচিত। তিনি অহংকার, গর্ব ও অহমিকা থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখবেন। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ফরজগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করবেন। আদর্শ স্ত্রীর জেনে রাখা উচিত যে, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার ও কর্তব্য প্রচুর এবং মহৎ; কিন্তু এটাও জানা উচিত, তার চেয়ে বেশি অধিকার ও কর্তব্য স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এবং সেগুলোও সুমহান।
একই ভুল বারংবার না করা, ভুল করে ফেললে শুধরে নেওয়া এবং সে ভুল যাতে সংঘটিত না হয় সে ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা একজন উত্তম স্ত্রীর অন্যতম গুণ। তিনি হবেন আল্লাহ পাকের জিকিরকারিণী। সর্বদা তার জিহ্বা আল্লাহর জিকিরে মশগুল রাখবেন। স্ত্রী হবেন পূতঃপবিত্র, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। পোশাক-পরিচ্ছেদ এবং শারীরিকভাবে তা প্রকাশ পাবে। আল্লাহর বাণী,

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদের পছন্দ করেন।’ (সূরা বাকারা : ২২২)।

আদর্শ স্ত্রীরা স্বামীর সব আদেশের অনুগত হবেন। তবে যদি কোনো পাপ কাজের অথবা আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এর বিরুদ্ধাচরণ কিছু হয় তা হবে অগ্রহণযোগ্য, যা মানা যাবে না। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন,

‘কোনো সৃষ্টির অনুগত হতে গিয়ে আল্লাহর অবাধ্য কোনো কাজ করা যাবে না।’

স্ত্রী স্বামীকে কিছু দান করলে বা খেদমতের কারণে তাকে খোঁটা দেবেন না। স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোজা আদায় করবেন না। মুহরিম ছাড়া অন্য কাউকে স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার বাড়িতে বা রুমে প্রবেশ করতে না দেওয়া আদর্শ স্ত্রীর বিশেষ গুণ। তিনি হবেন লজ্জাশীল। স্বামীকে কখনও কোনোভাবে কষ্ট দেবেন না। স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে স্বামীর সম্পদের কোনো কিছু কোথাও ব্যয় করবেন না।
সর্বোপরি, আদর্শ স্ত্রী স্বামীকে সন্তুষ্ট ও খুশি রাখবেন। আর এর মাধ্যমেই জান্নাত লাভের পথ সুগম করবেন। হাদিসে আছে- হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন,

স্ত্রীর প্রতি তার স্বামী সন্তুষ্ট ও খুশি থাকা অবস্থায় কোনো স্ত্রীলোক মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (রিয়াদুস সালেহিন : ২৯২)।


  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আরও পড়ুন

নীল প্রজাপতি

         মিজানুর রহমান মিজান: মুক্তস্বাধীন শৈশব...

কর আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব খাতকে সমৃদ্ধ করতে হবে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  সিলেট...