আদর্শ এখন লাইফ সাপোর্টে

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০১৯     আপডেট : ৯ মাস আগে  
  

মোশাররফ হোসেন সুজাত

আদর্শ এখন লাইফ সাপোর্টে
চেতনারা নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে রাস্তায়
হাসপাতালে সিসি ইউ-তে মৃত্যু প্রহরে
বিবেকহীনরা মসনদের সিঁড়িতে অমরত্বের নেশায়
লোভের পাহাড়ে তাদের নির্লজ্জ বসতি
একি আমার বংশধরের ইতিহাস?
একি আমার জন্মস্থান?
লাখো শহীদের রক্তের উর্বরতা কি আজকের বাংলাদেশ?
নাকি নিত্য শহীদের বহমান স্রোতের নাম স্বাধীনতা?

যে কবির কবিতায় সাম্রাজ্যবাদের গন্ধ
যে শিক্ষকের আদর্শে লম্পট্টের লেবাস
যে সাহিত্যিক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবির হাতে
বৈষম্য আর দূর্নীতির পতাকা
ওরা দৃশ্যমান বস্ত্রের ভিতর অদৃশ্য বস্ত্রহীন
আমি তাদের মানবতা ও মানবিকতার ধিক্কার দেই।

যে পিতা তার সন্তানকে আদর্শের রক্ত খেতে দেয়
নৈতিক মূল্যবোধের বিপরীতে অসভ্যতার দীক্ষা দেয়
আফিমের সাগরে ভাসিয়ে দেয় তার রূপ যৌবন
আমি তাদের জন্মের ধিক্কার দেই!
যে নেতা অমরত্ব খুঁজে প্রতিবাদীর মিছিলে
শৃঙ্খলিত মানবতা করে বর্বর,
স্বৈরাচারী মননে আচরণ তার পশুর মতো
বিবেক বিসর্জিত করে কালো টাকার আড়ালে
শান্ত মানচিত্র করে মানবিকতার নরক বাস
আমি তাদের বলি নষ্টের চাষ !

আমি অপ্রকৃতিস্থ হই মাঝে মাঝে
আমার চোখ আমাকে বিশ্বাস করেনা
আমার বিবেক আর মনুষ্যবোধ চিৎকার করে
নিষ্পাপ কিশোরীর ছিন্নভিন্ন যোনি
আর ক্ষতবিক্ষত দেহে ধর্ষণের ভয়াবহতা
আমাকে উন্মাদ করে,
আমার অসহায়ত্ব, ভাঙ্গা পাঁজর, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
অবেলায় উদ্যান ছেড়ে
আমাকে আত্মহত্যার পাপে তাড়িত করে!

প্রতিবাদের সব অস্ত্রই আজ শৃঙ্খলিত
রাষ্টীয় বর্বরতার তীব্রতায় ক্ষয়ে গেছে তার ধার
কবিতারা সময়ের নির্মমতার নিরব সাক্ষী
আদর্শের রক্তমাখা দেয়ালে কবিতারা জ্বলে উঠুক
কবিদের রক্ত আর অশ্রুজল মিশে হোক কবিতার বর্ণ
বৈষম্য নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিস্ফুরিত হোক কবিদের হৃদয়
লাইসেন্সধারী দালাল দেশদ্রোহীদের উপর ঘৃণা হোক কবিতার ইশতেহার।

কাপুরুষদের রাজ্যে দিবালোকে সূর্য ডুবে অন্ধকূপে
নিশুতিতে স্বপ্নেরা ঝরে সাজানো আইনের দাবাখেলায়
ভক্ষকদের বিচারালয়ে নিরপরাধীদের রক্ত ঝরে
রংধনুর ডিজিটাল রিমান্ডে শত মায়ের কোল শূন্য হয়
এই শোষণ ত্রাসের রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে কবিতায় হোক
তিতুমীর নজরুল ভাসানী আর ক্ষুদিরামদের জন্ম।

রিফাত রাজিব ত্বকি তরিকুলরা নরপশুদের বর্বরতায় নিহত হয়নি
স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখিয়েছে ইতিহাসের পাতায়
নুরু রাশেদরা আহত হয়নি আহত হয়েছে আমাদের
মনুষ্যত্ব ও মানবিকতা
ওরাই বাংলার পতাকা শহীদ নূর হোসেনের উত্তরসুরী
ওরাই স্বাধীনতার প্রতীক আর গনমানুষের ভাষা
স্বৈরাচারের উত্থিত উনুনে ওরাই আজকের মাঝিমাল্লা।

বিউটি তনু মিতু তাসফিয়া রূপা নুসরাতরা আমাদের বোন
তাদের রক্তে আজ সবুজ পতাকা লালে লাল
সেই পতাকা হোক কবিদের বিবেক দর্পণ
আদর্শ ও নৈতিকতার পাঠশালা,,,

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না
এই রাষ্ট্রযন্ত্রের কসাইখানা আমি চিনিনা
আমি আমার দেশকে ফিরে চাই!
যে দেশ ছিলো শাহজালাল আর শাহপরানের
যে দেশ ছিলো খান জাহান আর শরীয়তউল্লাহর
যে দেশ শেরেবাংলা সোহরাওয়ার্দী আর ভাসানীর
আমি খুঁজি সেই কুয়াশা ভেজা শান্ত সকাল
উদাস দুপুর আর নিশুতির নির্মল আকাশ
আর সূর্যাস্তে মুয়াজ্জিনের সুললিত কন্ঠ।

আমি প্রতিটি শহীদদের নামে একটি কবিতা চাই
যে কবিতা হবে একটি তারকা একটি সূর্য
যে কবিতা হবে পৃথিবীজোড়া এক মহাকাব্য
যার আলো ছড়িয়ে পড়বে সৃষ্টির শেষ যবনিকায়।
কবিতারা কোন বাধা মানেনা
কবিতারা স্বীকার করেনা কারও বশ্যতা
কবিতারা চির অম্লান চির অক্ষয় অবিনাশী
কবিতারা বিস্ফুরিত এটম, উত্থিত মাইন
কবিতারা স্বাধীন আর চির নির্ভীক।

সময় আজ আদর্শের ধারাপাতে বড়ই নির্মম
ধর্মীয় পন্ডিতরাও পরনিন্দায় ব্যস্ত
ওরা সাগরের উত্তাল ঢেউ দেখেনা
পুকুর আর ডোবা নালার শান্ত জলে দৌড়ায়
বাংলার আবুগারিবগুলোর নির্মমতা তাদের চোখে পড়েনা
পড়েনা সেই কারাগার থেকে উড়ে আশা ফাতেমার চিঠি
বাংলাদেশের আফিয়া সিদ্দিকী আর ধর্ষিত শিশু আসিফাদের তারা চিনেনা
তারা শুনেনা রাজপথের শতশত আসমা বেলতেগীর আর্তনাদ
কলেজ ভার্সিটি থেকে আমার বোনেরা যখন সম্ভ্রম রক্ষার করুন প্রার্থনা করে
চৌরাস্তায় দিবালোকে যখন তাদের উপর চলে নরপশু বদরুল আর নয়নবন্ডদের বর্বর হত্যাযজ্ঞ
তখন ওরা অন্ধ, ওরা বধির, ওরা নিরব
বস্ত্রহারানোর সময় যে তাদেরও এসে গেছে
সে খবর তারা রাখছে না।

কবিতার বিনাশ নেই, হবেও না
বাংলার সবকটি মাটির প্রদীপ একদিন শিখা হয়ে জ্বলবে কবিতার ভিতর
এ মাটি থেকেই সবুজে সবুজে ভরে যাবে প্রান্তর
পাপিষ্ঠ নরপিশাচদের দাঁতাল চোয়াল, চোখ, নখ সব উপড়ে ফেলা হবে
কান্ডারীরা জেগে উঠবে মুহাম্মদ বিন কাসেমদের জন্ম হবেই
এই সতেরো কোটি মানুষের আয়তক্ষেত্রে।।

আরও পড়ুন