আদর্শিক লড়াই-সংগ্রামে নেপথ্যের নায়ক ছিলেন মইনুদ্দিন জালাল

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অকালপ্রয়াত যুব সংগঠক ও আইনজীবী মইনুদ্দিন আহমদ জালালকে মানব মুক্তির স্বপ্ন দেখা প্রগিতিশীল যুব রাজনীতির এক বাতিঘর অভিহিত করে বক্তারা বলেছেন, মইনুদ্দিন জালাল রাজনীতির বাইরেও ছিলেন তৎপর। বিপদের সময় সবার কাছে তিনি ছিলেন পরম নির্ভরতার মানুষ। সমাজ-প্রগতির আদর্শিক লড়াই-সংগ্রামে মইনুদ্দিন জালাল ছিলেন একজন নেপথ্যের নায়ক।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নগরের সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রয়াত বাম রাজনীতিবিদ ও সংগঠক মইনুদ্দিন আহমদ জালাল স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
মইনুদ্দিন আহমদ জালাল নাগরিক শোকসভা কমিটি সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক ও গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যরিস্টার মো. আরশ আলী।সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লুৎফুর রহমান, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, মইনুদ্দিন আহমদ জালাল নাগরিক শোকসভা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ননী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ লালা, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ এবং মইনুদ্দিন আহমদ জালালের স্ত্রী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী।
সিপিবির প্রেসিডয়িাম সদস্য সৈয়দ আবু জাফর আহমদ মইনুদ্দিন জালালকে একজন মানব মুক্তির রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে বলেন, তিনি আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল মানব মুক্তি। আমরা তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে পারে। নতুন প্রজন্মের নিকট তাঁর মানবিক গুণাবলী তুলে ধরে সমাজ প্রগতির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বক্তৃতায় মইনুদ্দিন জালালকে একজন পরোপকারী এবং সব দল ও মতের মানুষের সঙ্গে মিশুক স্বভাবের বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জালাল তাঁর আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। কিন্তু মুক্ত মন ছিল। এ জন্য তাঁর অনেক বন্ধু আছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে। মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পেশাজীবনে সহযোগিতা করতেন। এক কথায় তিনি ছিলেন একজন মানবিক মানুষ।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান স্মৃতিচারণায় বলেন, সব দল ও মতের মানুষের সহায়তায় জালাল এগিয়ে আসতেন। অকাল মৃত্যু আমাদের মধ্যে এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। এ শূন্যতা কাটাতে হবে জালালের জীবনের গুণাবলীকে নতুন প্রজন্মের কাছে জাগ্রত রেখে।
সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জালাল নেপথ্যের নায়ক ছিলেন। এমন মানুষকে আমরা অকালে হারিয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁকে চির জাগরূক করে রাখতে যে কোনো উদ্যোগে আমার সর্বাত্মক সহায়তা থাকবে।
শোকসভায় স্মৃতিচারণা করে আরও বক্তব্য দেন, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার, সিপিবি সিলেটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বেদানদ্র ভট্রাচার্য, জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক লোকমান আহমদ, কবি তুষার কর, মদনমোহন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, বাংলাদেশ উদীচীর সিলেটের সভাপতি কবি একে শেরাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনিম জোয়ার্দার, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, জাসদ মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির আহমদ, প্রয়াত মইনুদ্দিন আহমদ জালালের প্রতিবেশী আইনজীবী ওবায়দুর রহমান, আটাব সিলেটের সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ত্রিদিব দেবনাথ, জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট এর সমন্বয়ক আবুজাফর, সাম্যবাদী দলের নেতা মোশাহিদ আলী, বাসদ মার্কসবাদী নেতা কমরেড উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির নেতা কেন্দ্রীয় নেতা সিকদ্রর আলী,গণতন্ত্রী পার্টি সিলেটের সভাপতি মো. আরিফ মিয়া।
প্রয়াত এই নেতাকে স্মরণ করে শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সিলেটের সভাপতি পাপ্পু চদ্র, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেটের সরোজ কান্তি, ছাত্র মৈত্রী সিলেটের মাসুদ রানা,সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট মহানগরের সভাপতি রেজাউর রহমান রানা,খেলাঘর সিলেটের তপন চৌধুরী টুটুল, সিলেট জেলা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সিপিবি সুনামগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ, যুব ইউনিয়ন হবিগঞ্জ জেলার সভাপতি আব্দুল হাকিম প্রমুখ।
শোকসভার শুরুতে প্রতিকৃতিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ উপলক্ষে ‘রেড স্যালুট প্রিয় কমরেড মইনুদ্দিন আহমদ জালাল’ নামের একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। বিকেল চারটা থেকে টানা প্রায় পাঁচ ঘন্টা চলে শোকসভা। বক্তারা মইনুদ্দিন জালালকে আদর্শবাদী ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে বলেন, মইনুদ্দিন আহমদ জালাল মূলত সিলেটে যুব আদ্রোলনকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। নব্বই পরবর্তী যুব-রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারবিরোধী আদ্রোলন, ১৯৮৮ সালের সর্বগ্রাসী বন্যা মোকাবেলার লক্ষ্যে ত্রাণ তৎপরতা, তেল-গ্যাসলুটেরা সিমিটার-বিরোধী আদ্রোলন, দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক-দালাল নিমূল কমিটির মাধ্যমে তৎপরতা, কবি শামসুর রাহমানের বিরুদ্ধে সংগঠিত আদ্রোলনের বিরোধিতা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাললের নামকরণ নিয়ে প্রগতিশীলদের নিয়ে সংগঠিত আদ্রোলন, টিপাইমুখ বিরোধী আদ্রোলনসহ নানা সামাজিক ও পরিবেশকেদ্র্রিক আদ্রোলনে তাঁর কর্মতৎপরতা ছিল উল্লেখ করার মতো। সর্বশেষ গণজাগরণ মঞ্চ গঠিত হওয়ার পর সিলেটে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
উল্লেখ্য, পেশায় আইনজীবী মইনুদ্দিন আহমদ জালাল বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মন্ডলীর সাবেক সদস্য ও সিলেট জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। পরিবেশ ও নদী সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন ‘অঙ্গীকার বাংলাদেশ’-এর পরিচালকও ছিলেন তিনি। গত ১৮ অক্টোবর ভারতের শিলংয়ের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। গত শুক্রবার সিলেট শহরতলির ধরাধরপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে প্রয়াতের চেহলাম হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল ২ জনের

          রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায়...

সিলেটসহ ৫৯ জেলায় ৪৫ হাজার নদী দখলদার চিহ্নিত

         জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ৫৯...

বড়লেখা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

         সিলেট এক্সপ্রে স র‌্যাপিড এ্যাকশন...

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়

         সালেহ আহমদ হৃদয় , সুনামগঞ্জ...