আত্মবিশ্বাসীদের জীবন বদলাবেই

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল : আমাদের সবার জীবনের চলার পথে অনেক বাধা বিপত্তি আসতে পারে। চলতে ফিরতে কতরকম ভুল করে ফেলি। এসব নিয়ে আমাদের আফসোসের শেষ নেই। এটা কেন হলো না, সেটা অমন হলেও পারত, জীবনে কিছুই পেলাম না ইত্যাদি অনেক কিছু নিয়েই আমাদের আফসোস । কেউ কেউ সেইসব বিপত্তি উতরে যান আবার কেউবা যেতে পারেন না।সবকিছুর প্রাপ্তির মূলে রয়েছে এই ব্যর্থতার ছাপ। জীবনের যে কোন সময়ে ব্যর্থতা আসতে পারে কিন্তু তাতে ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়। জীবনে যারা সফল হয়েছিলেন, সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছেছিলেন তাদের মূলমন্ত্র ছিল এই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা। জীবনে চলার পথে বাধা আসবেই। সেই বাধা পেরিয়ে নিজের লক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।আমাকে আমার সফলতা দ্বারা বিচার করবেন না; ব্যর্থতা থেকে কতবার আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা দিয়ে আমাকে বিচার করেন। সবার জীবনেই একসময় ব্যর্থতা আসতে পারে। তবে ব্যর্থতা শুধু ক্ষতি নয়, উপকারও বয়ে আনে। ব্যর্থতা থেকে যেসব শিক্ষা লাভ করা যায় তার কোনো তুলনা হয় না। এ লেখায় রয়েছে তেমন কয়েকটি শিক্ষার কথা।
এগিয়ে যাওয়া: সবকিছু যদি স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে তাহলে আপনি অনেক দ্রুত সামনে এগোতে পারবেন। যদিও এভাবে এগিয়ে যাওয়া কোনো বৈচিত্র্য প্রকাশ করবে না। এ কারণে বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়মেই মেনে চলার মতো হবে। অন্যদিকে চলার পথে যদি উত্থান-পতন থাকে তাহলে তা আপনার জীবনকে বৈচিত্রময় করবে। এতে সামনে এগিয়ে যাওয়াকে উপভোগ করা যাবে। ব্যক্তিগত জীবন কিংবা কর্মক্ষেত্র, সবখানেই ব্যর্থতায় হতাশা আসবে এবং সাফল্য আনন্দ আসবে এটাই স্বাভাবিক। আর উভয় বিষয় ছাড়া সম্পূর্ণ উপভোগ করা যাবে না। ব্যর্থতা ছাড়া সাফল্য অবান্তর।

সতর্ক হওয়ার শিক্ষা: কোনো বিষয় ভেঙে গেলে আমাদের বড় ভুল হয়ে গেছে বলে মনে হতে পারে। আবেগগত বিষয় ছাড়াও থাকতে পারে আর্থিক কিংবা পেশাগত ক্ষতির বিষয়। আর এতে দুঃখবোধ হতেই পারে। তবে এ বিষয়টি আপনাকে বেশ কিছু বিষয় শিখতে সহায়তা করবে। যেমন একটি গ্লাস মাটিতে পড়ে ভেঙে গেলে আপনি ভালোভাবে সে স্থানটি পরিষ্কার করবেন। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য যেন এখানে আঘাত না পায় সেজন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আর এ বিষয়টি ঘটতে পারে অন্য যে কোনো বিষয়েই। যে কোনো ভুল হলে তা সামলে ওঠার জন্য যা যা করা দরকার তা আপনার শেখা হবে।

উদ্যম সংযত করা: সবারই বহু সমস্যা থাকে। কেউ যখনই এ সমস্যায় ভিন্ন কোনো মাত্রা যোগ করে তখন তা এতে বাড়তি বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে। কর্মক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে সামান্য ভুল হলেই তাতে একে অন্যকে দায়ী করে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেখা যায়। যখনই এমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যায় তখনই তা মানুষের উদ্যমের প্রকাশ ঘটায়। এ ঘটনা উদ্যমকে সংযত হতেও সহায়তা করে। কারণ একবার ভুলের ফলে উদ্যমের যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, দ্বিতীয়বার ভুলে তা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এতে পরবর্তীতে যেন এমন ভুল না হয় সেজন্য যথাযথ উদ্যমের সঙ্গে প্রস্তুতিও নেওয়া যায়।

উদ্দেশ্য ঠিক করা: যখনই কোনো ভুল হয় তখন মনে ঠিক কোন বিষয়টি আসে? অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমি কিভাবে এত বড় ভুল করলাম? এক্ষেত্রে তখন স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা আসতে পারে যে, আমি বাস্তবে এত বড় বোকা নই। কিন্তু উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আর এ বিষয়টি পরবর্তীতে উদ্দেশ্য সামনে রেখে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।

ভুল সামলে ওঠা: একটি ভুলের পর তা সামলে ওঠাই স্বাভাবিক। আর এ থেকে শেখা যায় ভুল কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়ে ওঠার উপায়। ব্যর্থতা মূলত এমন একটি বিষয় যা চলার পথে স্বাভাবিকভাবে আসতেই পারে। আর একে সামলে ওঠাও একটি শেখার বিষয়। ভুল করলে এ শিক্ষা আপনি পেয়ে যাবেন। আর পরবর্তীতে যেন এমন ভুল না হয়, সে উদ্যমও এ থেকে সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।

ব্যর্থতা কি কোনো ইতিবাচক অভিজ্ঞতা? একে সবসময় ভয় পাওয়া কি উচিত? ব্যর্থতা গ্রহণে এবার সাহসী হয়ে উঠতে পারেন আপনিও। নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, ব্যর্থতা থেকে সর্বোত্তম শিক্ষা নেয় মস্তিষ্ক।

আমাদের মস্তিষ্ক দুটি পদ্ধতিতে কাজ করে। একটি হলো শাস্তি, নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ইত্যাদির মাধ্যমে শেখা, যা মস্তিষ্ককে পুনরায় ভুল করতে বাধা দেয়। অন্যটি হলো প্রশংসামূলক শিক্ষা, ইতিবাচক দিক, অভিজ্ঞতা জোরদার করা। এসবের মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক সঠিক কাজটি করার নির্দেশনা পায়।

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি এবং মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জর্জিও করিসেলি বলেন, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে যখন আমরা পছন্দ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট তথ্য পাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক ভুলের দিকে না এগিয়ে সঠিক নির্দেশনায় সফলতার দিকে এগোয়।

গবেষণার অংশ হিসেবে ২৮ জন যুবককে কতগুলো প্রশ্ন করা হয়েছিল। সঠিক উত্তর দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন করতে পারে কিনা দেখার জন্য। শর্ত ছিল, উত্তর সঠিক হলে তারা অর্থ পুরস্কার পাবে; অন্যথায় জরিমানা দিতে হবে।

প্রথম চেষ্টায় দেখা গেছে, প্রতিযোগীরা ভুল উত্তর দিয়েছে। দ্বিতীয় চেষ্টায় তারা সঠিক উত্তর দিয়েছে এবং তৃতীয়বারের চেষ্টার ফলাফল নির্ভর করেছে ভুল থেকে তারা কতটুকু শিখলো এর ওপর।

তৃতীয়বার প্রতিযোগীরা মস্তিষ্কের দুর্বলতা সংশোধনের মাধ্যমে সবগুলো উত্তরই সঠিক দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয়, ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুভাবেই মস্তিষ্ক শিক্ষা লাভ করে।

অনুশোচনাও আরেকটি নেতিবাচক পদ্ধতি। কোনো কাজ করে অনুশোচনা সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে সেই কাজ করা থেকে বিরত থাকে মানুষ। গবেষণাটি ন্যাচার কমিউনিকেশন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল।

একটি প্রতিযোগিতামূলক কাজ যদি সহজ হয় তাতে বিশেষ আগ্রহের কিছু নেই। কাজটি যত কঠিন আনন্দ তত বেশি- কারণ, খাটুনি সইতে না পেরে কিছুক্ষণ পরই একটু একটু করে মানুষজন হাল ছেড়ে দিতে শুরু করবে। কয়জন থাকবে নাছোড়বান্দা তারা দাঁত কামড়ে পড়ে থাকবে জিনিসটি নিয়ে, এবং দেখা যাবে আস্তে আস্তে তারা বাদে বাকি সবাই ঝরে গেছে! এভারেস্টের চূড়ায় এজন্যই সবাই পৌঁছাতে পারে না, বারবার আছাড়-পিছাড় খেয়েও কিছু মানুষ ঝুলে থাকে, শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশান তারাই উড়িয়ে দেয়।পৃথিবীর খুব সুন্দর একটি ব্যাপার হচ্ছে জীবনের কোন দুঃখই চিরস্থায়ী না, একশ বছর আগে যেই মানুষটি মারা গিয়েছিল দুঃখে তার আত্মীয়রা কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলো- সেই মানুষটিকে এখন কারও মনে নেই পর্যন্ত। সুতরাং যত ঝড়-ঝাপটাই বয়ে যাক না কেন আপনার উপর, যত বুকভাঙ্গা হাহাকারই আসুক না কেন- মনে রেখবেন এই বেদনা ক্ষণস্থায়ী, মেঘ কেটে ঝলমলে রোদ্দুর আসবেই।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : মায়াবিনী মেঘালয় রূপের রাণী

আরও পড়ুন

মহান আন্তজাতিক ১মে দিবসে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশ ও র‌্যালী

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  জাতীয়তাবাদী...

ছাতকের কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

        ছাতক প্রতিনিধিঃছাতকে কৃষকদের মাঝে কৃষি...

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: কোম্পানীগঞ্জ থানার...

প্রধানমন্ত্রী আ ন ম শফিককে ৫ লক্ষ টাকা দিলেন

         দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা...