আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

আজ বুধবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী। আজ কুমারী পূজাও। কুমারী পূজায় একজন বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী জ্ঞানে তাকে পূজা করেন। আজ সকালে অষ্টমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। হবে সন্ধিপূজাও। এদিন বলিদানও হয়। সন্ধিপূজায় দেবী দুর্গাকে চন্ডীরূপে বা কালিরূপে পূজা করা হয়।
হিন্দু ধর্মমতে, পরমা প্রকৃতি স্বরূপা মহাদেবী, মহাদেবের পতœী। মার্কন্ডেয় পুরাণ মতে, মহামায়া, পরমবিদ্যা, নিত্যস্বরূপা, যোগনিদ্রা। দেবীদুর্গা জন্ম-মৃত্যু রহিতা মহাশক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। মহাশক্তি বলে দুর্গাকে নিদ্রা, ক্ষুধা, লজ্জা, তুষ্টি, আগুনের দাহিকা শক্তি, সূর্যের তেজ, জলের শীতলতা, ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণ্যশক্তি, ক্ষত্রিয়ের ক্ষত্রিয় শক্তি, তপস্বীর তপস্যাশক্তি, ক্ষমাবানের ক্ষমা শক্তি। পৃথিবী ধারণ ও শস্য উৎপাদন ক্ষমতা প্রভৃতি বলে স্তব করা হয়ে থাকে।
দেবী দুর্গা তার দশ হাতে দশ রকম অস্ত্র, এক পা তার বাহন সিংহের পিঠে আর এক পা অসুরের কাঁধে। তাকে ঘিরে থাকেন লক্ষ্মী, স্রস্বতী, গণেশ আর কার্তিক।
অশুভ শক্তি রাবণ সীতাকে হরণ করে লংকাতে নিয়ে যায়। সীতাকে উদ্ধারের জন্য শ্রীরামচন্দ্র দেবী দুর্গার কাছে একশ আটটি নীল পদ্ম দিয়ে মায়ের পূজা করেন। মাতৃভক্ত শ্রীরামচন্দ্র পূজায় বসে অঞ্জলি দেয়ার সময় দেখলেন নীল পদ্ম একটা কম, তখন ধনুক দিয়ে চোখ উঠিয়ে নীল পদ্মের সংখ্যা পূরণ করতে উদ্যত হলে দেবী দুর্গা এসে বাধা দেন এবং আশীর্বাদ করেন।
অশুভ শক্তি রাবণকে পরাজিত করতে এই আরাধনা করা হয়েছিল শরৎকালে অকালে। তাই, এ পূজা অকাল বোধন নামে পরিচিত।
গতকাল মহাসপ্তমী বিহিত পূজা থেকেই মূলতঃ সাড়ম্বরে শুরু হলো পূজা। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গার শ্রীচরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন ভক্তরা। সেই সাথে চলবে বিশ্বের সকল মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা। সপ্তমী পূজার সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য আলোক সজ্জায় আলোকিত হয়ে উঠে পূজা মন্ডপগুলো। দিনের কর্মক্লান্তি ভুলে পুণ্যার্থী, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করেন। সন্ধ্যার পর থেকেই প্রতিটি পূজা মন্ডপে পরিবেশিত হয় আরতিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নগরীর মাছুদিঘিরপারের ত্রিনয়নী পূজামন্ডপ এলাকা সন্ধ্যার পর বর্ণিল সাজে রঙিন হয়ে উঠে। একইভাবে নগরীর নাইওরপুল এলাকার রামকৃষ্ণ মিশন, বলরাম জিউড় আখড়া, দাড়িয়াপাড়ার চৈতালী, ঝুমকা সংঘ, সনাতন যুব ফোরাম, জিন্দাবাজার, জল্লারপাড়ের সত্যম শিবম সুন্দরম, মণিপুরী রাজবাড়ি, লামাবাজার তিন মন্দির, কাজলশাহ, মিরের ময়দান, জামতলা, তোপখানা, মাছিমপুর মণিপুরী পাড়া, মাছিমপুর কুরি পাড়া, চালিবন্দর, যতরপুর, মিরাবাজার, রায়নগর, সোনাতুলা, গোপালটিলা, দুর্গাবাড়ি, বালুচর, আম্বরখানা, করেরপাড়া, পনিটুলা, আখালিয়া কালিবাড়ি, শেখঘাট, গোটাটিকর, জৈনপুর ও শিববাড়ি এলাকায় ভক্তদের ঢল নামে। এছাড়াও, নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও উপজেলা এবং জেলাসমূহে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন