আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

,
প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজ ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্ব মুসলিমের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং চিরস্মরণীয় দিন। এই দিনে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করেন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে পাপপংকিলময় আরবে আমাদের মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন আজকের এই দিনে। আবার আজকের এই অবিস্মরণীয় দিনেই মানব সমাজকে মনুষ্যত্বের পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে তিনি শেষ বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। এই পৃথিবী তথা বিশ্ববাসীর জন্য শান্তির দূত মহানবী (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে আজকের দিনটি বিশ্ব মুসলিমের কাছে অতি পবিত্র দিন। এই দিনটি জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে আলোর পথে প্রত্যাবর্তনের শুভ সূচনার মহিমায় ভাস্বর একটি দিন। তাই আজকের এই দিনে মহানবী (সা.) এর প্রতি আমাদের লাখো দরুদ ও সালাম।

আজকের দিনটি শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, গোটা বিশ্ববাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মহানবী (সা.) শুধু আরববাসীর জন্য নয়, গোটা বিশ্ববাসীর মঙ্গল ও শান্তির জন্য এসেছিলেন। শান্তি ও সাম্যের বাণী নিয়ে মানবেতিহাসের চরম দুর্যোগময় মুহূর্তে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার আগমনে দূরীভূত হয় পাপ পংকিলতা, অন্যায়, অবিচার আর কুসংস্কার। বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে উজ্জ্বল আলোর ঝলকানী। সেই আলোর অবগাহন করে বিশ্ববাসী। ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে ঠাঁই নেয় অত্যাচারিত, নির্যাতিত ও পথভ্রষ্ট মানুষ। প্রতিষ্ঠিত হয় সত্য, ন্যায় ও সুন্দর। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবাণীতে মানবজাতি পায় শ্রেষ্ঠ জীবের মর্যাদা। পবিত্র আল কুরআনের ভাষায়- রসুল (সা.) হলেন রাহমাতুল্লিল আল আমিন বা সমস্ত জগতের রহমতস্বরূপ। মহানবী (সা.) এর সীরাত-এর বা জীবনাদর্শের অনুসরণ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে মানবজাতির সামনে কোনো বিকল্প নেই। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মহানবী (সা.) এর জীবন জুড়ে রয়েছে মানুষের জন্য এক অনুপম শিক্ষা। সত্য, সুন্দর ও ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে সারা জীবনই তাকে বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে বাতিলের নির্যাতন ও নিপীড়ন। অসীম ত্যাগ স্বীকার করে ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তিনি মোকাবেলা করেছেন তাগুতি শক্তিকে। আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগে তিনি জন্মগ্রহণ করেও দূরে ছিলেন জাহেলিয়াত থেকে। বরং তার আর্বিভাবের জন্যই মানুষের ওপর মানুষের প্রভুত্বের অবসান হয়, গোলাম পায় মানুষের মর্যাদা, দাসত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় নারীরা, বিলুপ্ত হয় বর্ণবাদ, কবর রচিত হয় জাহেলিয়াতের। আর তাইতো মনিষী জর্জ বার্নার্ড শ বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর মতো একজন মানুষ যদি বর্তমান যুগের রাষ্ট্রপ্রধান হতেন, তাহলে সমাজে শান্তি, মুক্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতো।
আসলেই তাই, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনাদর্শ যদি অনুসরণ করা যায় তবে অশান্তি, অস্থিরতা, অন্যায়, অবিচার থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আজকের এই সুন্দর পবিত্র দিনে আমাদের খুঁজে দেখতে হবে মহানবী (সা.) এর আদর্শ এবং শিক্ষা আমরা কতোটুকু গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সমাজে যে অশান্তি-বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, তা প্রমাণ করে আমরা মহান আল্লাহর নির্দেশনা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। সত্যি বলতে কি, মুসলিম বিশ্বের সংহতি, ঐক্য আজ হুমকির সম্মুখীন। শক্তিশালী নয় ঈমানী চেতনাও। ইসলামের নামে ইসলাম বিদ্বেষীদের মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড ঘটে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে আজকের দিনটি হোক বিশ্ব মুসলিমের জন্য নবউদ্দীপনার নবজাগরণের। আজ বিশ্ববাসীকে শপথ নিতে হবে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বিধান অনুসারে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনার, একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ, একটি সুন্দর বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তোলার। আশরাফুল মাখলুকাতের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে উম্মতে মুহাম্মদীকে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সেই শক্তি দান করুন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : শীত বইতে শুরু করেছে সিলেটে

আরও পড়ুন

জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

6        6Sharesজগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের...

ফটো সাংবাদিক ইকবাল মনসুরের শয্যাপাশে বদরুজ্জামান সেলিম

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : গুরুতর...

যুক্তরাস্ট্রের ৩১টি রাজ্যে লকডাউন তুলে দেয়ার পরিকল্পনা

         এমদাদ চৌধুরী দীপু(নিউইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে...