আজিজুল হক পায়ে লিখে প্রথম শ্রেণি থেকে এসএসসি পাশ

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০৮ মে, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম আহমদ আলী
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে দু’হাত বিকল আজিজুল হক। সে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের সৈয়দ কুতুব জালাল মডেল উচচ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার এই সাফল্য আনন্দে ভাসিয়ে দিয়েছে মা বাবার মতো বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষককে। জন্মের পর থেকেই আজিজুল হকের দু’হাত বিকল। তার মেধা মনন আল্লাহর অপার মহিমায় খুবই প্রখর। জন্মের পর থেকেই আজিজুলকে নিয়ে মা বাবার দুশ্চিন্তার শেষ ছিলোনা। এক সময় তাকে ভর্তি করা হয় মোগলা বাজার ইউনিয়নের খালের মুখ পূর্বভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শুরু হয় আজিজুলের শিক্ষা জীবন। প্রথম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে আজিজুল। হাত বিকল হলে ও পা দিয়ে লিখে প্রথম স্থান লাভ করে সে। এভাবেই তার আলোর পথের যাত্রা শুরু। প্রাথমিক বৃত্তি সহ সকল পরীক্ষায় সে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। এই প্রতিবেদক পূর্বভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জলকর কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি নজরে আনেন বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি বর্তমানে মোগলা বাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম সাইস্তা। পরে আজিজুলের অধম্য সাফল্য গাথা জীবন নিয়ে দৈনিক সিেেলটের ডাকে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই সাফল্য গাঁথা জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও পায়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে আরেকটি সাফল্যের জানান দিল আজিজুল হক। এর আগে পায়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে। পেয়েছিল প্রাথমিক বৃত্তিসহ বিভিন্ন বৃত্তি। অত্যন্ত মেধাবী বিনয়ী শান্ত প্রকৃতির আজিজুল হক পা দিয়ে লিখলেও তার লেখা অন্য শিক্ষার্থীদের হাতের লেখার চেয়ে সুন্দর। দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের সৈয়দ কুতুবজালাল মডেল উচচ বিদ্যালয় থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আজিজুলসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে আরও তিনজন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বভাব কবি মোহাম্মদ আবদুল করিম জানান, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আজিজুল হকসহ আরও তিনজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আজিজুল প্রতিটি ক্লাসে ফাস্ট বয় ছিল। আজিজুল দক্ষিণ সুরমার খালেরমুখ গ্রামের বাসিন্দা। তার মা-বাবা দু’জনই শিক্ষক। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। দুই হাত সরু হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারে না সে। তবে চলাফেরায় তার কোনো সমস্যা হয় না। আজিজুলের বাবা সৈয়দ কুতুবজালাল মডেল উচচ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফজলুল হক জানান, পা দিয়ে দীর্ঘ সময় লিখতে গিয়ে প্রায়ই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তার পুত্র। এ জন্য তিনি চিকিৎসকের কাছে স্মরণাপন্ন হন। অস্ত্রোপাচার করলে আজিজুলের হাত সচল হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে তিনি চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তিনি তার এই সম্ভাবনাময় সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের হৃদয়বান বিত্তশালী মানুষের দৃষ্টি কামনা করেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

হত্যাসহ গণধর্ষনের প্রতিবাদে পল্লীসমাজের মানববন্ধন

2        2Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক দেশব্যাপী নির্যাতন,...

বালাগঞ্জে সমাজপতিদের অত্যাচারের শিকার শিক্ষক রাধিকা রঞ্জন দাস

         সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরিপুর...

সিলেট চেম্বারের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

           সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: অর্থ...

সুনামগঞ্জ নাগরিক উন্নয়ন ফোরাম ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সুনামগঞ্জ নাগরিক...