আইন-ই-আকবরী-তে লেখা সিলেটি কমলা মিষ্টি

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

সেলিম আউয়াল:
সিলেটের কমলালেবু, আনারস এবং সাতকরা মধ্যযুগে তো ছিলোই, এমন কি আজো সমানভাবেই বিখ্যাত। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে সিলেটি কমলার মিষ্টতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে। ব্রিটিশ আমলে ১০০ কমলা ১২ আনা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হতো। এ থেকে মধ্যযুগে সিলেটে কমলা যে নামমাত্র দামে বিক্রি হতো তা অনুমিত হয়। এছাড়া আম, জাম্বুরা, বাতাবি লেবু (সাংতাড়া) ও চীনামূল ছিলো উল্লেখযোগ্য।
মুনসী গোলাম হোসেন সলিম কর্তৃক ১৭৮৭-৮৮ খ্রিস্টাব্দে রচিত রিয়াজ উস সালাতিন মধ্যযুগের ইতিহাসের উপাদান সম্বলিত একটি ফারসি গ্রন্থ। রিয়াজ উস সালাতিন গ্রন্থে সিলেটের গঙ্গাজলি কাপড়ের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছেÑ‘যার ভেতর দিয়ে সাপ প্রবেশ করতে পারতো না।’ গঙ্গাজল নামের সুতি কাপড় মুগল আমলে খুব বিখ্যাত ছিলো।
চাল, তুলা, আখ, পান, নারিকেল, সুনতারাহ, মধু ও কাঠ ছিলো সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য। সিলেট চাল ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ জাহাজ, নৌকা, এমন কি বর্ম ও কামানের গোলাও রফতানী করতো। সিলেটের অন্যান্য উৎপাদিত দ্রব্যের মধ্যে বিভিন্ন আকারের মাছ ধরার জাল, বিশেষ ধরনের তুলা ও কাঠের তৈজসপত্র, গোলাপজল, শুঁটকির বিদেশে চাহিদা ছিলো। এ ছাড়া সিলেট, পার্শ্ববর্তী খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়ের চুন এবং বন্য হাতির প্রাচুর্যের জন্য সতেরো শতকে এ এলাকা অত্যন্ত জনপ্রিয় বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলো।
আরব বণিকরা সিলেট থেকে আগর-আতর, ঘৃতকুমারি গাছ (অষড়ব), সুগন্ধ কাঠ (ংধহফধষ ড়িড়ফ), উপজাতি বলয়ে তৈরি নানা ডিজাইনের ভারি কাপড়ও (যেমন-খেশ, পরি, লাইচামফি ইত্যাদি) নিয়ে যেতেন। সিলেটে প্রাপ্ত ঘৃতকুমারি গাছের খুব চাহিদা ছিলো বিদেশীদের কাছে। ভেষজ হিসেবে এর কার্যকারিতা ছিলো সুদূর প্রচারিত। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে এই ঘৃতকুমারি গাছ এবং অপর এক ধরনের খুবই মূল্যবান ভেষজ চীনা মূল (পযরহধ- ৎড়ড়ঃ) রপ্তানীর উল্লেখ আছে। চীনামূল সিলেট, গারো এবং খাসিয়া পাহাড়ে প্রচুর উৎপন্ন হতো।
মধ্যযুগে সিলেটের আতরও বেশ প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলো। পাথারিয়া পরগনার আগর কাঠ থেকে উৎকৃষ্ট আতর তৈরি হতো। সিলেটের আতর কলকাতা হয়ে আরব ও তুরস্কে যেতো বলে হান্টার উল্লেখ করেছেন।
১৭৭২ খ্রিস্টাব্দের ২৭ অক্টোবর রাজস্ব আদায়ের জন্যে সিলেটে কালেকটর পদ সৃষ্টি করা হয়। সিলেটের প্রথম কালেকটর উইলিয়াম মেকপীস থেকারের সময় সিলেট থেকে ১ লাখ ২০ হাজার মন চুনা রফতানী করা হতো। সিলেটের প্রান্ত এলাকায় খেদার মাধ্যমে হাতি ধরা ও কেনাবেচা হতো। সিলেট বিভাগের চাপঘাট, ভানুগাছ, রঘুনন্দন পাহাড়, চামতলা ও জৈন্তার মুলাগুল প্রভৃতি স্থান থেকে হাতি ধরে বিক্রি করা হতো। কোন কোন স্থান থেকে বছরে ৫০ থেকে ১০০টি হাতি ধরা হতো।

আরও পড়ুন