অর্থমন্ত্রীর প্রার্থী হওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে সাধারণ ভোটাররাও

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ সংসদীয় আসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এ নিয়ে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) পার্টি অফিসও ছিল বেশ আলোচনা মুখর। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে সাধারণ ভোটাররাও।

জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন সভা সেমিনারে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তুত করছিলেন তার অনুজ জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেনকে। শেষ মুহূর্তে এসে প্রার্থী হিসেবে নিজের মুখে তার ভাইয়ের নাম ঘোষণা দিয়ে সমালোচনার মধ্যে পড়েছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর এ সদস্য। পরে অবশ্য ঘুরিয়ে মোমেনের সঙ্গে সিলেট-১ আসনে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসেইনকেও যোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

তফসিল ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে সিলেট সফরে এসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুনরায় নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদও এমনটি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এমন ঘোষণার পর গতি কমে আসে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে।

সর্বশেষ শুক্রবার (৯ নভেম্বর) দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন অর্থমন্ত্রীর অনুজ ড. এ কে আব্দুল মোমেন। দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনার টাকা অর্থমন্ত্রী নিজেই তাকে দিয়েছেন বলে জানান মোমেন।

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তার ছেলে সাহেদ মুহিত। তখন কার্যালয়ের নিচতলায় ছিলেন অর্থমন্ত্রী। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় মনোনয়ন ফরম বিতরণ স্থলে যাননি তিনি।

দেখা গেছে, বরাবরই ভাইয়ের প্রতি দুর্বল অর্থমন্ত্রী। তার নিজের চেয়ে অনুজের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন নিয়েই উচ্ছ্বসিত ছিলেন বেশি।

অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করছে, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি নির্বাচন করবেন না। যদি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কোনো কারণে বাতিল হয়, তবেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

আবার অন্য একটি সূত্র দাবি করছে, অর্থমন্ত্রীর পরিবারের একাধিক সদস্য চান তিনি নিজে আবারো নির্বাচন করবেন। তারা মন্ত্রীকে বার বার বোঝানোরও চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে এটি অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তহীনতা নাকি দলের জন্য কোনো চমক রয়েছে তা বুঝে উঠেতে পারছে না সাধারণ ভোটাররা।

আবার গত বছরের মধ্যসময়ে অর্থমন্ত্রীর ছেলে সাহেদ মুহিতের ছবি সম্বলিত বেশকটি বিলবোর্ড নগরীর পয়েন্টে পয়েন্টে শোভা পায়। তাতে সিলেট-১ আসনের জনসাধারণকে সাহেদ মুহিতের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়। তখন থেকে সাধারণ ভোটারদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল চাচার বিরুদ্ধে সাহেদ মুহিত অবস্থান নিচ্ছেন কিনা?।

অর্থমন্ত্রীর বার বার সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে আবারো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে প্রার্থী নির্ধারণে আওয়ামী লীগের কোনো চমক নয়, অন্য কোনো কারণে এমনটা হচ্ছে। বাবার পক্ষে সাহেদ মুহিতের মনোনয়ন তোলার পর সেখানেও এ বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দলের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তাদের মতে, নেত্রী যাকে দেবেন তার পক্ষে তৃণমূলের কর্মীরা কাজ করবে।

আরও পড়ুন



চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে অর্থমন্ত্রীর শোক

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের...

কাদেরের বাইপাস সার্জারি বুধবার

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : আগামীকাল...