অমর বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

বেলাল আহমদ চৌধুরী :

মীর গুল খান নাসির বঙ্গবন্ধু হত্যার পর “ভোর কোথায়” শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেশে বিদেশে অনেকেই কবিতা লিখেছেন। সম্ভবত মীরগুল খান নাসিরের কবিতাটি প্রথম। এ কবিতার কয়েকটি পঙক্তি উল্লেখ করছি-
চিৎকার, ক্রন্দন আর শশ ব্যস্ত আহ্বানের মাঝে/উল্লাস করছে অন্ধ জনতা/ ওরা বলে, ‘এখন ভোর/ কিন্তু জীবন পানে তাকিয়ে/ আমি দেখি রাত্রি, ঘোর অমানিশা।/ বিদ্যুৎ চমকানো আর বজ্রপাতে মনে হয় দূরে বৃষ্টি হচ্ছে, / কিন্তু বাতাসে বৃষ্টির নাম গন্ধ নেই/ রক্তের ধারা বইছে প্রবল।/ সা¤্রাজ্যবাদের দালালেরা আবারও জ্বালিয়ে দিচ্ছে / গ্রাম-নগর/ মহান দেশপ্রমিক মুজিব নিজ রক্তের সাগরে শায়িত/ সা¤্রাজ্যবাদের অভিশপ্ত সেবাদাসেরা তাঁকে/ রক্তের জামা পরিয়ে দিয়েছে এবং বিদ্ধ করেছে বুলেটে/ মুক্তির শিখা কোথাও জ্বলে উঠলে এরা তা নিভিয়ে দেয় দ্রুত/ বঙ্গবন্ধু মুজিব সপরিবারে নিহত ওদের হাতে/ আবারও স্বাধীনতার পতাকা অর্ধনমিত।
বাঙালির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু ট্রাজিক হিরো। ১৫ আগস্ট এক গভীর শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে নির্মম ও পৈচাশিক হত্যাকান্ডে তাবৎ পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষ কেঁদেছে। ঘাতকচক্র শুধু অবিসংবাদিত বিশ্বনেতাকে হত্যা করেনি শিশুপুত্র রাসেল ও অন্ত:সত্তা পুত্রবধূ সহ পরিবারের সকল সদস্যকে ঘৃণ্য ঘাতকরা নির্মমভাবে ঠা-া মাথায় খুন করেছে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে পাকিস্তান সহ তৃতীয় বিশ্বের ৪৬টি দেশে অন্তত ৭৩টি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে কিন্তু ১৫ আগস্টের সঙ্গে পৃথিবীর কোন ক্যুর; অভ্যুত্থানের মিল নেই।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন বৃহস্পতিবার বাংলা বাঙালির ইতিহাসে একটি চিরস্মরণীয় দিন, দুঃখের দিন, কলংকের দিন। ঐদিন যুদ্ধের নামে বিনা যুদ্ধে বেঈমান মীরজাফরের বিশ্বাস ঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল।
সদ্য স্বাধীনতা উত্তর পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানম-ির ৩২ নম্বর বাসভবনে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বিশ্বের নিপীড়িত মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ঘটে আরেক পলাশী। হয়ে গেল আরেক মীরজাফরী। ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে গভীর শোকের দিন। আজকের এইদিনে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার মহান স্থপতি, অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে ১৫ আগস্টের সকল শহীদকে।
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী” থেকে জানা যায় আমাদের বাঙালির মধ্যে দুইটা দিক আছে। একটা হলো ‘আমরা মুসলমান, আর একটা দিক হলো, আমরা বাঙালি। পরশ্রীকাতরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে। বোধহয় দুনিয়ার কোন ভাষায়ই এই কথাটি পাওয়া যাবে না, ‘পরশ্রীকাতরতা’ পরের শ্রী দেখে যে কাতর হয়, তাকে ‘পরশ্রীকাতর’ বলে। ঈর্ষা, দ্বেষ সকল ভাষায়ই পাবেন। সকল জাতির মধ্যেই কিছু কিছু আছে। কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা। ভাই ভাইয়ের উন্নতি দেখলে খুশী হয় না। এই জন্যই বাঙালি জাতির সকল রকম গুণ থাকা সত্ত্বেও জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে, সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি, এমন উর্বর জমি দুনিয়ার খুব অল্প দেশেই আছে। তবুও এরা গরীব। কারণ যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজেকে এরা চিনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন ওদের মুক্তি আসবে না।
বেঈমানীর শেষ নয়, বঙ্গবন্ধুর আজীবনের বন্ধু ও রাজনৈতিক সহচর ও তাঁর মন্ত্রীসভার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুশতাক আহমদ বঙ্গবন্ধুর রক্ত মাড়িয়ে রাষ্ট্রপতি হয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, তাঁর ভাষায় দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ১৫ আগস্টের ফরযী হয়ে তিনি ক্ষমতাসীন হয়েছেন। ওরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু শেষ হলেই সব শেষ, ওরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন, যার ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ। ইংরেজীতে একটি কথা বলা হয়েছে- লিডারশিপ ইজ দ্য ক্যাপাসিটি টু ট্রান্সলেট ভিশন ইনটু রিয়েলিটি, অর্থাৎ নেতৃত্ব হলো স্বপ্নকে বাস্তব করে তোলার সক্ষমতা। বঙ্গবন্ধু বাঙালির হাজার বছরের সেই হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধু বাংলার মাটি ও মানুষকে ভালোবেসেছেন। আমরা দেশবন্ধু পেয়েছি, শেরে বাংলা পেয়েছি, সিরাজী পেয়েছি, ইসলামাবাদী পেয়েছি। একটি চরের নামে নামাঙ্কিত মাওলানা ভাসানী পেয়েছি, পেয়েছি আরও লোকোত্তর অনেক মনীষী কিন্তু বঙ্গবন্ধু ঐ একজনই। বঙ্গ জননীর হাজার বছরের প্রতীক্ষার এ এক ফলশ্রুতি।
বঙ্গবন্ধু সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন একটি স্বাধীন সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষে। জাতীয় শোক দিবসে আমাদের অঙ্গিকার হউক গণতান্ত্রিক ও দুর্নিতী মুক্ত বাংলাদেশ। স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়ন হউক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে হবে সকল সংকীর্ণতা ও দলীয় গন্ডি অতিক্রম করে। তাকে দেখতে হবে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসাবে।
লেখক : কলামিস্ট।


  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আরও পড়ুন

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুতে গণদাবী ফোরামের শোক

         জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি,...

বাজেটকে স্বাগত জানালো সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার

         সিলেট :: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া...

ওসমানীনগরে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার, আটক-২

         ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের লামা ইসপুর...

সিলেট বিএনপি’র ১৮ উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন

         সিলেট এক্সপ্রেস দলকে পুনর্গঠনের অংশ...