অভিবাবক ও সহকর্মী

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ১১ মাস আগে  
  

লে. কর্নেল সৈয়দ আলী আহমদ (অবঃ):
চাকুরি জীবনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী ছিলেন আমার সিনিয়র সহকর্মী। বর্তমানে তিনি আমার অভিভাবক ও সহকর্মী। তিনি তাঁর বিনয়, ভদ্রতা ও মিষ্টিভাষণের জন্য চাকুরীতে ও চাকুরীর বাইরে সবমহলে সুপরিচিত। আমি তাঁর ‘এসিআর’ লিখবো আজ।
৫৫ পদাতিক ডিভিশনের স্টাফ অফিসার-২ হিসেবে পোস্টিং পেলাম। ওখানে আমার স্টাফ অফিসার-১ ছিলেন লে. কর্নেল ফারুক আহমদ চৌধুরী। জিওসি মেজর জেনারেল সাদিকুর রহমান চৌধুরী, টিকিউএ (তমঘায়ে কায়েদে আজম)। ৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে তিনি ওই খেতাব পেয়েছিলেন।
আমাদের আগের স্টাফ অফিসার-১ ছিলেন জুবায়ের সিদ্দিকী। প্রথমে তাঁর নামের সঙ্গে পরিচিত হই এভাবে।
পরে স্যারের সঙ্গে দেখা হলো, আমি যখন সেনা সদরে স্টাফ অফিসার -২ ক হিসেবে পোস্টিং পেলাম। স্যারের সঙ্গে দেখা হতো, কথা হতো। তিনি সব সময় ¯েœহ পরায়ন ছিলেন।
১৯৮৯ সালে তিনি দিল্লিতে পোস্টিং পেলেন ডিফেন্স এডভাইজার হিসেবে। যাবার আগে দেখা করে গেলেন।
আমি এতো জুনিয়র যে, দেখা না করলেই চলতো। কিন্তু তিনি ভিন্ন মেজাজের মানুষ। আমাকে তাঁর কেমন লাগতো জানিনা। তবে সৈনিক হিসেবে আমার অনেক সিনিয়রকেই পছন্দ হতো না। চাকরিতে পছন্দ অপছন্দের স্থান কম। দায়িত্ব পালন করলে এবং কর্তব্যপরায়ন হলে আর সমস্যা নেই। তবুও আমি জুবায়ের স্যারকে পছন্দ করতাম।
গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতাম। তিনি একজন রোল মডেল অফিসার ছিলেন।
আমার বদ অভ্যাস গুলোর মধ্যে একটি হলো, আমি পরিচিত জনকে ফোনে হয়রানি করি। মাঝে মাঝে খোঁজ নেবার জন্য ফোন করি। স্যার বিরক্ত হন না। জালালাবাদ ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করি ২০০১-২০০২-এই দুই বৎসর। তখন স্যার অবসরে এবং আল-হামরার একটি কম্পিউটার স্কুলে প্রধান। তখন থেকে আজ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ। ২০০৩-এ অবসর গ্রহন করি। ২০০৫-এর ২ শে ফেব্রুয়ারি এলাকার কয়েকজন চেয়ারম্যান ও শিক্ষিত গন্যমান্য কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে একটি নাগরিক সংবর্ধনায় সম্মানিত করতে চান। জুবায়ের সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হয়ে আমাকে সম্মানিত করেন এবং কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেন। এরপর মুসলিম সাহিত্য সংসদের বিভিন্ন সভা, আলোচনা এবং প্রকাশনা অনুষ্ঠানে একেত্র বসে আলোচনা করি। বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় হয় এবং এখনো হচ্ছে। তাঁকে দুবার কলঅন করেছি ভালো লাগে মানুষদের সঙ্গে আমি সম্মানজনক দুরত্ব বজায় রাখি। এ ক্ষেত্রেও তাই। তবু আমি ফোন করি। কদাচিৎ তিনিও করেন। আমি তাঁর বক্তৃতার ভক্ত-তিনি বাহুল্য বর্ধিত একজন রুচিশীল কথক। সময় জ্ঞান বজায় রেখে কথা বলেন। নিজেকে জাহির করার কোন প্রবৃত্তিই তাঁর নেই। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি নমনীয়। এসব গুণাবলী তাঁকে সৈনিক জীবনেও আকর্ষনীয় করে তুলেছে। একজন সিনিয়র সম্পর্কে একজন ছাত্রতুল্য জুনিয়র আর কি কলতে পারে? বেশীি প্রশংসা শিষ্টাচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই তাঁর প্রতি অফুরান শুভেচ্ছা, পরিমিত ভালোবাসা ও অসীম শ্রদ্ধা ছাড়া আর কিছু থাকে না। সিলেট অঞ্চলের অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের জ্যেষ্ঠতম সদস্য হিসেবে তিনি আমাদেরকে ¯েœহ দেবেন। নিরোগ স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘ-জীবন লভ করুন। এই প্রার্থনাই করি।

পরবর্তী খবর পড়ুন : একজন তিনি, অত:পর তিনি

আরও পড়ুন