অবশেষে মাল্টা থেকে ফেঞ্চুগঞ্জে ফিরল তন্ময়ের মরদেহ

প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দীর্ঘ ৩ মাস ৩ সপ্তাহ প্রতীক্ষার পর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মেধাবী ছাত্র কামনাশীষ চন্দ তন্ময়ের মরদেহ টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।

মাল্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তন্ময়ের মরদেহ দেশে এসেছে বলে জানান তন্ময়ের বড় চাচা জিতেন কুমার চন্দ।

পরে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সকাল ৭টায় রওয়ানা দিয়ে বেলা সোয়া ১টায় তন্ময়ের মরদেহ তার জন্মস্থান ফেঞ্চুগঞ্জে এসে পৌঁছায়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তন্ময়কে শেষবার একনজর দেখতে এলাকার ছোট-বড় সবাই তার কফিন ঘিরে ভীড় করেন। হিন্দু-মুসলিম সবাই এতে সহযোহিতা করেন।

তন্ময়ের মরদেহ গাড়ি থেকে নামিয়ে তার ঘরের উঠানে রেখে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসারে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঋষিকেষ দেব রন্টু, ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা, ব্যবসায়ী চম্পু দত্ত, ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে বেলা আড়াইটার দিকে সৎকারের জন্য মরদেহ শ্মশান ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
উলেখ্য তন্ময়ের স্বপ্ন ছিল উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজানোর! ভালো একটি চাকরি, পরিবারের মুখে হাসি, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আর সেই স্বপ্নই সাগরে তলিয়ে যায় ফেঞ্চুগঞ্জের মেধাবী ছাত্র কামনাশীষ চন্দ তন্ময়’র। ইউরোপের দেশ মাল্টার ম্যালিহা শহরের করাল লেগুন পর্যটন কেন্দ্র থেকে সাগরে সাঁতার কাটতে গিয়ে তলিয়ে যায় তন্ময়’র স্বপ্ন। কামনাশীষ চন্দ তন্ময়’র আরেক নাম ছিল শান্ত, পরিবারের কাছে ‘শান্ত’ নামটিই ছিল অতি আদরের।

এ ব্যাপারে তন্ময়ের জেষ্ঠ্য চাচা জিতেন কুমার চন্দ জানান, মেধাবী ছাত্র কামনাশীষ চন্দ তন্ময় এ বছরের ২ জানুয়ারি স্টুডেন্ট ভিসায় ম্যানেজমেন্ট এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর জন্য পাড়ি জমায় ভূমধ্যসাগরের বিশাল বুকে ক্ষুদ্র একটি দেশ মাল্টায় লেখাপড়া ও চলছিল যথারীতি।

ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারে জে. ওসমানি সড়কে অবস্থিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বইঘর ও সুধা প্রিন্টিং প্রেস’র অন্যতম পরিচালক সদর ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের কৃপেশ রঞ্জন চন্দ (তপন)’র জেষ্ঠ্য ছেলে কামনাশীষ চন্দ তন্ময়।

তবে বিধিবাম, ৪ মাসের শেষ দিনে অর্থাৎ ২ মে শনিবার মাল্টা সময় বিকেল সাড়ে ৪ টায় মাল্টার ম্যালিহা শহরের করাল লেগুন পর্যটন কেন্দ্র সমুদ্র সৈকতে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কাটতে যেয়ে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে যায় তন্ময়। পরদিন ৩ মে রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টায় খবর আসে শান্ত সাগরে নিখোঁজ রয়েছে! তবে মাল্টা সরকারের উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে বিশাল সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেন শান্ত’র মরদেহ।

জিতেন কুমার চন্দ আরো জানান, মাল্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দরা তন্ময়ের মরদেহ দেশে পাঠাতে তাদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

বিএমবিএফ সিলেটের সচেতনামূলক র‌্যালি, লিফলেট বিতরণ ও সভা অনুষ্ঠিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ মানবাধিকার...

পনিটুলা মহাপ্রভুর আখড়ায় অষ্টপ্রহর হরিনাম সংকীর্ত্তন ২৯ জুলাই সোমবার

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: পরমারাধ্যা গুরুদেব...

আজ বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্টেডিয়াম মার্কেট বন্ধ থাকবে

         সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক...