অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে পর্যটন

,
প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১     আপডেট : ৪ সপ্তাহ আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাজহারুল ইসলাম সাদী :

বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (World Tourism Organization) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে সকল সদস্য দেশে দিবসটি পালিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্র সমূহের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এছাড়াও পর্যটনের ভুমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপযোগীতাকে বিশ্ব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিবছর দিবসটি উদযাপনের জন্য একটি প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক করে দেয় বিশ্ব পর্যটন সংস্থা। এবার অর্থাৎ ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো “Tourism for Inclusive Growth” “অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন” এবারের আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট। যদিও বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস প্রেক্ষাপটে অন্যান্য বছরের মতো প্রচলিত ধারায় সর্বত্র ঘটা করে অনুষ্ঠান হবেনা তবুও গুরুত্ব সহকারে দিবসটি পালিত হবে বিশ্বব্যাপী।
২০২১ সালের পর্যটন দিবসটি এমন একটি সময়ে উদযাপিত হচ্ছে যখন ভয়াবহ করোনার থাবায় ধনী, গরীব, নির্বিশেষে বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনৈতিক চেহারায় ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে। যখন অন্যান্য সকল খাতের ন্যায় পর্যটনখাতও চরম ভাবে বিপর্যস্ত। পর্যটনের সাথে জড়িত সকল স্টেক হোল্ডাররা নানা ভাবে বিধ্বস্ত। এই খাতের সবচেয়ে উপরের তলার বড় বিনিয়োগকারীরা যেমন বিশাল বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তেমনি একদম তৃণমূলের একজন ট্যুর গাইড, একজন নৌকার মাঝি, একজন গাড়িচালক এমনকি পর্যটন স্পটে ৫/১০ টাকা মূল্যের ফুল বিক্রেতা শিশুটিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
করোনাকালীন বিশ্বে যে সব খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো পর্যটন খাত। পর্যটন খাতের এবং বিপর্যস্ত পুরো অর্থনীতির মন্থর চাকায় গতি ফিরিয়ে আনতে অন্তর্ভুক্তিমুলক প্রবৃদ্ধি ধারণা এই মুহুর্তে যথার্থ, বাস্তব ভিত্তিক সুফল বয়ে আনবে। ক্ষত বিক্ষত বিশ্ব অর্থনীতির মেরামতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির যে প্রয়োজনীয়তা সেখানে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে পর্যটন।
‘ধনীর আরো ধনী হয়ে উঠা আর গরীবের আরো গরীব হতে থাকা’র বিপরীতমুখী উন্নয়নের এই সময়ে পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে প্রচলিত অসমতা আর বৈষম্যের অবসান ঘটানো সম্ভব। কারন পর্যটন শিল্পে যে ভাবে অর্থের সার্কুলেশন ঘটে অন্য কোন শিল্পে এমনটি ঘটে না। একজন ট্যুরিস্ট যখন পকেট থেকে টাকা খরচ করে সেই টাকার একটি অংশ খ্যাতনামা বিমান কোম্পানী যেমন পায় তেমনি অজপাড়াগাঁয়ের একজন নৌকার মাঝিও একটি অংশ পায়। সেই টাকার একটি অংশ ফাইভ স্টার হোটেল যেমন পায় তেমনি পর্যটন স্পটের একটি ছোট্ট চায়ের দোকানীও এর একটি অংশ পায়। তাই সঠিক ও পরিকল্পিত ভাবে ব্যবহার করতে পারলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে পর্যটন। এতে করে পর্যটন খাত নিজে যেমন ঘুরে দাঁড়াবে তেমনি সামগ্রিক অর্থনীতির ঘুরে দাঁডানোতেও হবে সহায়ক।

মাজহারুল ইসলাম সাদী
সাধারণ সম্পাদকঃ
ট্যুর গাইড এসোসিয়েশন অব গ্রেটার সিলেট
সহ-সাধারণ সম্পাদকঃ
সিলেট ট্যুরিস্ট ক্লাব।
mazharsadi21@gmail.com


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : আসছে করোনার ট্যাবলেট

আরও পড়ুন

মাধবপুরে ধর্ষণবিরোধী বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

2       আবুল হোসেন সবুজ সারা দেশের...

জুনিয়র চেম্বারের শীতবস্ত্র বিতরণ – সামর্থ অনুযায়ী শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে

        সেবামুলক প্রতিষ্ঠান জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল...

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: মুন্সিগঞ্জের লৌহজং...