অনুগল্প টাই

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

মুনশি আলিম:

– এত সাজুগুজো কইরা কনু যাও?
– হশুর বাড়ি।
– নগে কইরা কিছু নিলা না?
– কি নিমু? পুইরান অইয়্যা গেছি না!

কথাটি বলেই এমরান একগাল হাসে। ও হাসলে ওর তক্তপোষের মত চোয়াল শিড়দাঁড়ার মত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শ্বশুরবাড়ি কখনো সে টাই পড়ে যায় নি। আজ খুব শখ করে সে সুটকোট টাই পড়ে একেবারে বাবুটি সেজে বেরিয়েছে। টাই সে বাঁধতে জানে না। এলাকার কত শিক্ষিত লোকের কাছেই যে সে টাই বাঁধার জন্য গোপনে ধরণা দিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই! কিন্তু তারা অপারগতা প্রকাশ করা মাত্রই তার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু হেরে যাওয়ার পাত্র তো সে নয়! টাই যে তাকে পড়তেই হবে!
শেষটাতে সে রশি গিট দেওয়ার মত করে টাই গিট দিয়ে কোন রকমে কলারের সাথে বেঁধে রেখেছে। এতক্ষণ সে যার সাথে কথা বলেছে তার নাম আশরাফ। এই এলাকারই এক অর্ধশিক্ষিত বুদ্ধিজীবী! মক্কেলের পকেট থেকে টাকা বের করে আনার কৌশল যেমন উকিলদের ভাল জানা থাকে তেমনি এলাকায় বিচারস্থ বাদী বিবাদী উভয়ের পকেট থেকেই কৌশলে টাকা আদায় করার কৌশলেও তার জুড়ি নেই। এমরানও মাতব্বরির কলাকৌশল আশরাফের কাছ থেকে প্রত্যেহ সিফারা ছবক নেওয়ার মত করে ছবক নেয়। তাছাড়া সমবয়সী হওয়ার কারণেও আশরাফের সাথে তার বেশ অন্তরঙ্গতার সৃষ্টি হয়েছে।
আশরাফের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সামনে যেতেই এক মিষ্টির দোকান পড়ল। সেও ভাবল আজ সুটকোট পড়ে যাচ্ছি একটা কিছু না নিয়ে গেলে কেমন হয়! কথাটি মনে হতেই সে দোকান থেকে দুই কেজি মিষ্টি কিনে শ্বশুর বাড়ির দিকে রওয়ানা দিল। বাসযোগেই যেতে হবে বলে সে একটু হেঁটে মেইন রাস্তার এক পাশে এসে দাঁড়াল।
রাস্তায় বেশ খানাখন্দ। তাছাড়া কিছুক্ষণ আগে তুমুল বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে রাস্তার অনেক খানাখন্দের মধ্যেই পানি টইটুম্বুর করছে। একটি লাইটেস খুব দ্রুত আসতেছিল। এমরানের সে দিকে বিশেষ খেয়াল নেই। তার দৃষ্টি তখন দূর দিগন্তে। সাদা মেঘের ভেলার দিকে। কবিদের এই একটা দোষ। প্রায় সময়ই তারা অন্য মনস্ক হয়ে ওঠে। লাইটেস দ্রুত রাস্তা অতিক্রম করার সময় খানাখন্দের জমানো কাদা-পানি ছিটকে এমরানের প্রায় সমস্ত শরীর ভিজে যায়। পানির কিছু অংশ তার মিষ্টির বাক্সেও ঢুকে। চক্ষু রক্তবর্ণ করে এমরান কিছু বলতে বলতেই গাড়িটি দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।

পরবর্তী খবর পড়ুন : হেমন্ত

আরও পড়ুন