অধ্যক্ষের দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হওয়াতে কুৎসা রটানোর অভিযোগ

,
প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১     আপডেট : ২ মাস আগে
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

মইনউদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের সদ্য প্রাক্তন অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্ছার ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুর রউফ নয়ন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে অশালীন ও অশিক্ষকসূলভ আচরণের অভিযোগ তুলে মিথ্যাচার এবং কুৎসা রটাচ্ছেন। বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন প্রভাষক মো. মাহবুবুর রউফ নয়ন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নয়ন বলেন, ‘২০১৭ ও ২০১৮ সালে গিয়াস উদ্দিনের সাথে অনার্স কোর্সের শিক্ষকদের শতভাগ বেতন-ভাতা নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এ থেকেই তার সাথে বিরোধ হয়। এরপর থেকেই গিয়াস উদ্দিন তাকে নানাভাবে হয়রানি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি তার ও সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়েন। ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারির গভর্নিং বডির সভায় সিদ্ধান্তের আলোকে গিয়াস উদ্দিন তার পছন্দের শিক্ষকদের দিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও সাজানো কাহিনী সাজিয়ে তাকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে শোকজ করেন, যা বিধিসম্মত ছিল না। এ শোকজের জবাব প্রদানের পর কলেজের সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আজিজ ও সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কিন্ত এ কমিটি তার কোনো লিখিত কিংবা মৌখিক বক্তব্য না নিয়েই প্রতিবেদন প্রদান করে। এরফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর্বানুমতি না নিয়েই ২০১৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে তাকে কলেজ থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি এ অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একই বছরের ১৪ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আপিল করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল বোর্ড উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ২২ অক্টোবর তার পক্ষে চূড়ান্ত রায় দিয়ে চাকুরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু সর্বমোট ৫ বার লিখিভাবে আবেদন করার পরও কলেজ কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন তার সহযোগী ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও আমার সহকর্মী সৈয়দা ফাতেমা সুলতানা কর্তৃক পুলিশি হয়রানি করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক ও মনগড়া তথ্য দিয়ে ৩টি জিডি করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাননি বলে দাবি করেন প্রভাষক মাহবুবুর।’
তিনি অধ্যক্ষ গিয়াসের নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘২০১৮ সালের গভর্ণিং বডির এক সভায় দাতা সদস্য মহসিন মানিক কর্র্তৃক স্বাক্ষরিত এক পত্রে অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিনের গ্র্যাচুয়্যাটির টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলে। পরবর্তীতে চাপে পড়ে তিনি আত্মসাতকৃত টাকা কলেজ ফান্ডে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন। এছাড়া গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে কলেজ ফান্ড থেকে ব্ল্যাঙ্ক চেকের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মও ধরা পড়েছিল। আর গিয়াস উদ্দিন এ ঘটনার জন্য আমাকে দায়ী করেন। কিন্তু এতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।’
লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রউফ বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর যোগদান করেন। একটানা প্রায় ১১ বছর অধ্যক্ষ থাকাবস্থায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিভিন্ন দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন। যারাই তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তার রোষানলে পড়েছেন। অনেককে শোকজ, বিভিন্ন কমিটি থেকে প্রত্যাহার, এমনকি অনেকে বরখাস্তও হয়েছেন। তিনি প্রায়ই নবীন শিক্ষকদের বলতেন গভর্নিং বডি আমার কথায় চলে। চাকরি করতে হলে আমার কথার বাইরে যাওয়া যাবে না। অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি স্বেচ্ছায় ও স্ব উদ্যোগে কলেজের অধ্যক্ষ পদ ছেড়েছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে গিয়াস উদ্দিন কলেজের সাধারণ শিক্ষকদের ক্ষোভের মুখে ও সমালোচনার মুখে গভর্নিং বডির ২০২০ সালের ২১ অক্টোবরের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যা পত্র পত্রিকায় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এসেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালে কলেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন না করায় জেলা প্রশাসন কর্তৃক সতর্ক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভুতভাবে অধ্যক্ষ পদ ব্যবহার করে ও কলেজের উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুদকে রয়েছে। এছাড়া সিলেটের আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

আরও পড়ুন