অগ্নিঝরা মার্চের ঐতিহাসিক দিন আজ

,
প্রকাশিত : ০৭ মার্চ, ২০২১     আপডেট : ১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অগ্নিঝরা মার্চের আরেকটি ঐতিহাসিক দিন আজ। একাত্তরের আজকের এই দিনে স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্বেলিত বাঙালিরা ছুটে গিয়েছিলো ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে। সারা ময়দান কানায় কানায় পরিপূর্ণ। তাদের অপেক্ষার প্রহর গোনা কেবল একজনের জন্য। যিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, যিনি আমাদের স্বাধীনতা নামক মহাকাব্যের কবি। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হয়। মুহুর্মুহুঃ করতালি আর আকাশ বিদির্ণ ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের মধ্যে তিনি এলেন। মঞ্চে ওঠে দাঁড়ালেন। ঘোষণা দিলেন- ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম…’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতি বিজড়িত সাতই মার্চ পালন করছে জাতি আজ।
সেই মঞ্চের একমাত্র বক্তা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ছিলোনা কোনো সভাপতির আসন। সেই বক্তৃতায় তিনি ডাক দেন মুক্তির। বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির। লিখিত কিছুই ছিলোনা সেই ভাষণের। সবই ছিলো তাঁর মনের ক্যানভাসে খুদিত। তিনি চারদিকে উচ্ছ্বসিত জনতার দিকে তাকিয়ে ‘ভাইয়েরা আমার’ বলে বলিষ্ট কণ্ঠে জাতিকে আহ্বান করলেন। ১৯ মিনিটের সেই ভাষণ ছিলো সাবলিল, গতিময়। কোথাও থামেন নি তিনি। মনের গহীন থেকে একনাগাড়ে যেন বিস্ফোরণ করে কথাগুলো বেরিয়ে এসেছে তাঁর। এই ভাষণের সুললিত তেজোদ্দীপ্ত কণ্ঠ জাতিকে মন্ত্রমুগ্ধ করে তুলেছিলো। আর তাইতো সেদিনের সেই ভাষণ একটি ঐতিহাসিক দলিল বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। [শুধুমাত্র এই ভাষণের পরই জাতি স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষে মৃত্যুমুখে ঝাপিয়ে পড়ার অগ্নিমন্ত্র খুঁজে পায়। ঐতিহাসিকদের মতে, বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ ম্লান করেছে ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকনের দেয়া গেটিসবার্গের ভাষণ কিংবা ১৯৬৩ সালে মার্কিন লুথার কিং জুনিয়রের দেয়া ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ কিংবা ১৭৭৫ সালের প্যাট্রিক হ্যানরির ‘গিভ মি লিবার্টি, তার গিভ মি ডেথ’ ভাষণকেও।
নিন্দুকেরা বলে অনেক কিছু। তারা বলবেও আগামীতে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেদিন এই নিন্দুকেরাও বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো। সময়ের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর মধ্যে যে কতোটুকু রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ছিলো তা পরিস্ফুট হচ্ছে। তাঁর সেই দূরদর্শীতার জ্বলন্ত উদাহরণই হচ্ছে সাতই মার্চের আবেগঘন বক্তৃতা। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এই কথাগুলোতেই নিহিত রয়েছে তখনকার সাড়ে সাত কোটি বাঙালির প্রাণের কথা। আর এই কথার শক্তিতেই বাঙালিরা নয় মাসের মরণপণ যুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে পশ্চিমাদের কাছ থেকে। এই স্পিরিট জাতিকে আগামীতেও সম্মুখে এগিয়ে চলার সাহস জোগাবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

যুদ্ধ জীবন, বারমাসী যুদ্ধ কলা

         ইশরাক জাহান জেলী: শেক্সপিয়ার, নজরুল...

দক্ষিণ সুরমায় সিআইজি-নন সিআইজিদের দলীয় প্রশিক্ষণ

         দক্ষিণ সুরমায় এনএটিপিটু এর আওতায়...

মেয়র প্রার্থী এডভোকেট জুবায়েরের সমর্থনে কর্মীসভা

         সিলেট মহানগরীর শহাপরান পশ্চিম থানার...